সেই ভালো সেই ভালো

রবীন্দ্রসঙ্গীতে ছাড়া আর কোনখানে আছে প্রেমের প্রকৃত মুঠিচোখ ও চুম্বন?
প্রাচীন বর্ষার মতো অঝোরে রবীন্দ্রগান নেমে আসে শুশ্রূষায়শোকে...
যেন কবির কথাই সত্যি হলো। গত কিছুদিন ধরে নতুন মুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অলমোস্ট গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছি। এই দুর্যোগে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিকের পাশাপাশি আমার শুশ্রূষার দায়িত্ব নিয়েছে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত। প্রাচীন বর্ষার মতো অঝোরে নেমে আসছে কিনা জানি না, তবে ২০১৪ সালের এই বোরিং শ্রাবণ মাসে রবীন্দ্রনাথের গান সে ভূমিকায় পুরোমাত্রায় কার্যকর।   
এই গান যে আগে কখনো শুনিনি তেমন নয়। বিভিন্ন কন্ঠে বহুশ্রুত হওয়া সত্বেও হয়তোবা নতুন ধরনের এরেঞ্জমেন্টের কারনে এই ভার্সনটা বেশি ভালো লেগেছে। গানের লিরিকটাতে কোথায় যেন একটা চাপা অভিমান আছেসহজ স্বীকোরক্তি আছেআছে প্রেমিকার কাছে অসহায় সমর্পন।
"সেই ভালো সেই ভালো,     আমারে নাহয় না জানো।
দূরে গিয়ে নয় দুঃখ দেবে,    কাছে কেন লাজে লাজানো ॥"
আহা, এর চেয়ে মধুর কমপ্লেইন আর কী হতে পারে? লাজানো- শব্দটা নতুন। রবীন্দ্রনাথ অন্ত্যমিল ঠিক রাখার জন্যে ব্যবহার করেছিলেন। মানে হল লজ্জা পাওয়া।
"উতল আঁচল, এলোথেলো চুল,    দেখেছি ঝড়ের বেলা।
তোমাতে আমাতে হয় নি যে কথা      মর্মে আমার আছে সে বারতা"
এই ভাষা এতো আধুনিক যে ঘুনাক্ষরেও মনে হয় না এটা প্রায় ৯০ বছর আগে লেখা গান। সাথে অবশ্যই ভিন্ন আঙ্গিকে পরিবেশনা ও গায়কী যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ভয়ংকর রূপসী গায়িকার কথা না হয় নাই বললাম। 
ইদানীং অর্থোডক্স স্টাইলের পাশাপাশি আধুনিক/ অভিনব পদ্ধতিতে রবীন্দ্রগান গাওয়ার প্রয়াস প্রায়ই চোখে পড়ে। এটা নিয়ে তো একটা ক্ল্যাসিক্যাল ডিবেট চলছেই। আমার মনে হয় গানের মূল সুর ও মুড ঠিক রেখে নতুন এক্সপেরিমেন্ট গুলো চলতে পারে। ইনফ্যাক্টএকটা গান প্রচলিত ঘরানার বাইরে এসে নতুনভাবেব এরেঞ্জ করা অপেক্ষাকৃত কঠিন কাজএবং সেটা সফলভাবে করতে পারাটা অনেক কৃতিত্বের দাবী রাখে। এই গানটাতে যেমন খুব সুন্দর ভাবে গীটার এডজাস্ট করা হয়েছে।