সূর্যসম্ভবা

সূর্যসম্ভবা




একটা বেগুনি ফুলের পাশে

জমা থাক সমস্ত এপ্রিল।

আলগোছে বয়ে যাক দূরে

অচিন বনশোভা।

যেটুকু চুম্বন লেপ্টে ছিল ঠোঁটে

তাকে তুলে রেখ মনে।

জানুদেশে ঘামের ঘ্রাণ

যদি ভুলে যাই কোনদিন,

স্তনবৃন্তে জমে থাকা দুধ

যদি শুষে নেই ঘুমন্ত শিশুর মত।



২/৫/১৮
-












Amazon-এর চেতন ভগত, চেতন ভগতের Amazon

বিকালে কোন একটা নিউজে দেখলাম- বিখ্যাত কোম্পানি Amazon চেতন ভগতের সাথে দীর্ঘমেয়াদি six-book deal স্বাক্ষর করেছে। মানে হল চেতন ভগত আগামী বছর গুলোতে যে ছয়টি বই লিখবেন, তার বেচা বিক্রির দায়িত্ব এখন এমাজনের। উন্নত প্রযুক্তির বদৌলতে ভূ-ভারতের আনাচে কানাচে পৌঁছে যাবে চেতনের বই। দেখা গেল ঘরে বসে অর্ডার দিলেন আর মুহূর্তের মধ্যে ড্রোনে চেপে বই হাজির হল দরজায়। নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া। 

এই চুক্তির আওতায় প্রথম বইটি প্রকাশিত হবে এ বছরের অক্টোবরে। অনুমান করা যায় চেতন ভগত হয়ত এখন এই বইটিই লিখছেন। বাকিগুলো হয়ত আগামী পাঁচ বছর জুড়ে লেখা হবে। চুক্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলছেন- I am looking forward to reaching to more readers in tier-2 and tier-3 towns of India. আর যেটা বলি বলি করেও বলেন নি সেটা হল- অধিক পাঠক মানেই অধিক বিক্রি, অধিক বিক্রি মানে অধিক মুনাফা। 

বই প্রকাশনা তো শুরু থেকেই একটা ব্যবসা। তাই এ ব্যাপারে খুব বেশি ভিন্নমত পোষণ করার অবকাশ নেই। ভারতে ইংরেজি সাহিত্যের বিপুল পাঠক তৈরির পেছনে চেতন ভাগতের অবদান কে না জানে। 

কিন্তু যেহেতু প্রডাক্টা এখানে সাহিত্য, তাই প্রশ্ন থেকে যায় সাহিত্যের মানোন্নয়নে বিপুল পাঠক সমাজ তৈরির প্রয়োজন আদৌ কতটুকু। কবিতা, কথাসাহিত্য এগুলো তো জীবনের মৌলিক কোন প্রয়োজন নয়, যে না হলে একেবারে চলবেই না। যার ভাল লাগে সে পড়বে, যার লাগে না সে পড়বে না। একটা সমাজে সব মানুষ বই পড়বে না- এটাইতো স্বাভাবিক। কেউ সিনেমা দেখবে, কেউ চাকরি করবে, কেউ ক্রিকেট খেলবে। এখন যে ক্রিকেট খেলে তাকে বই পড়ানোর জন্যে তার উপযোগী করে টেইলরড সাহিত্য রচনা করাটা কতখানি যৌক্তিক। 

দুষ্টু লোকে চেতন ভগতের নাম দিছে - রাখি সাওয়ান্ত অব ইন্ডিয়ান লিটারেচার। সালমান রুশদিতো চান্স পেলেই পচায়। ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ-এর অনুষ্ঠানে রুশদিকে একজন প্রশ্ন করে- লেখকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আসলে কতটুকু? 

অডিয়েন্সের চেয়ারে চেতন ভগতও ছিলেন। রুশদি স্বভাবসুলভ রসিকতায় উত্তর দেন- লেখক একটা স্বেচ্ছাচারী সত্ত্বা। সে যাই লিখুক না কেন, ভাল না লাগলেও কেউ তাকে লেখা বন্ধ করতে বলতে পারে না। তারপর ঠাট্টাচ্ছলে এড করেন- Let's say there is a writer here who I don't like. Let us take Chetan Bhagat. He has the right to live...Ha ha ha!' 

পৃথিবীতে হয়ত হেন জিনিস নেই যা এমাজন বিক্রি করে না। ইঁদুর মারার ওষুধ থেকে শুরু করে টিভি, রেফ্রিজারেটর কী নেই তাতে। এসব প্রডাক্টের ভালমন্দ হয়ত বেচা-বিক্রির পরিমাণ দিয়ে নির্ধারণ করা যায়। ধরেন যে কোম্পানির ইঁদুর মারার ওষুধ বেশি বিক্রি হবে, বোঝা যাবে সে কোম্পানি সবচেয়ে ভাল। এখন একই মানদণ্ডে যদি সাহিত্যের বিচার শুরু হয় তাহলে বিষয়টা একটু অস্বস্তির হবে।

এমাজন তো আসছে ব্যবসা করতে। সাহিত্যের মান বিচার করার দায়ভার সে কেন নিবে? কিন্তু যেটা হয়ত করতে পারে তা হল- আরো কয়েকজন লেখককে এই সুযোগ করে দেয়া যাতে পাঠকের মনে কোন বৈষম্য তৈরি না হয়। ইন্ডিয়াতে তো আরো অনেকে ইংরেজিতে লিখছেন। হয়ত চেতন ভগতের মত অত জনপ্রিয় নন, কিন্তু তারপরও লিখছেন তো। ছয়টা বই চেতন ভগতের নিলে, একটা-দুইটা তো অমিতাভ ঘোষ কিংবা অরুন্ধতী রায়ের নেয়াই যায়, নাকি? 

--