|
তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে অ্যাক্রিলিক
তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে অ্যাক্রিলিক।
ভ্রমণের সিগন্যাল।
তোমার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে প্রবণতা।
নৌসময়ের আগে
তুমি নিশ্চয়ই মনে করে নিচ্ছো ঠিকঠাক
চুম্বনের যাবতীয় খসড়া
অমোঘ হয়ে ওঠার
সবগুলো শ্রাবণ শৈলী!
বালকের পৃথিবী ভাবনা - বায়োগ্রাফিমূলক ৩
আমার চোখে রাজ্যের ঘুম আর ডান কাঁধে একটা শান্তি নিকেতনি। দৈর্ঘ্যে এবং গাম্ভীর্যে আমাকে ছাড়িয়ে গিয়ে পায়ের গোড়ালি ছুঁয়ে দিচ্ছে বারবার। মা'র কিনে দেওয়া। শান্তি নিকেতনি ঝুলিয়ে ছেলেকে আর্টিস্ট বানাবে। ভিতরে একটা নতুন কেনা খাতা, একটা প্যাস্টেলের বক্স। প্যাস্টেলের বক্সের মলাটে টম এন্ড জেরির ছবি। ছবির কাহিনী খুবই ইন্টারেস্টিং। জেরি ন্যাংটো হয়ে সাওয়ার নিচ্ছে আর টম তলোয়ারের মত গোঁফগুলো দু'দিকে বাড়িয়ে দিয়ে পিছন থেকে উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু এতো মজার বিষয়েও আমি আজ কোন আগ্রহ পাচ্ছি না। আমার কাঁধ থেকে ঝোলানো শান্তি নিকেতনি যে হেলেদুলে, বাতাসে উড়ে আমার পার্শ্ববর্তী রাস্তাঘাট পরিস্কারের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে ওদিকেও খুব একটা ভ্রুক্ষেপ নেই।
ছুটির দিনে ঘুম হারানোর চেয়ে শোকাতুর বিষয় আর কিইবা হতে পারে? আমার এই এলোমেলো, ইতস্তত পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য আসলে মা'র প্রতি একটা মৌন স্মারকলিপি লেখা। শান্তি নিকেতনির ঝাড়ু হয়ে ওঠা এই স্মারকলিপির একটা অংশ মাত্র। মা ছোটবেলা থেকেই খুব বুদ্ধিমতী ছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তা আমার মুখ ফুটে বেরুবার আগেই অনায়াসে বুঝে ফেলতেন। এবারও তার অন্যথা হলো না। আমার ঝাড়ুদার হয়ে ওঠার প্রবৃত্তি তার চোখে ধরা পড়ে গেলো। "ছেলে ঝাড়ুদার হতে চাইছে" এটা নিশ্চয় কোন মা'ই সজ্ঞানে মেনে নিবেন না। আমার মাও নিলেন না এবং তৎক্ষণাৎ আমার শান্তি নিকেতনির কাঁধের ঝুলে একটা বড় গিট্টু মেরে দিলেন। ওবেচারা দৈর্ঘ্যে ও গাম্ভীর্যে ছোট হয়ে গিয়ে গোঁড়ালি থেকে আমার হাঁটুতে উঠে এলো। আমিও ঝাড়ুদার থেকে আর্টিস্ট বনে গেলাম।
সামনে একটা ছোট মাঠ। মাঠ পারলেই ক্লাসরুম। ক্লাসের নাম-হাসিখুশি। আমার মত যেসব ছোট্ট বাচ্চা চোখ কচলে, হাঁড়িমুখ করে বাসা থেকে একগাদা মন খারাপের দিস্তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এখানে ছবি আঁকতে আসে, মূলত: ওদের জন্যেই এই ক্লাস।
ক্লাসের বেঞ্চিগুলো বেঢপ সাইজের। বসে থেকে টেবিল নাগাল পেতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে। কিছু আর্টিস্ট দেখি হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে টেবিলের উপরেই বসে পড়েছে। কি সাংঘাতিক অভদ্র লোকজন! আমি কিছুক্ষণ জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকি। মা'কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। খানিকটা আকাশ আড়াল করা আম গাছটাকে দেখা যাচ্ছে। আম গাছে অনেক কাকের বাসা দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ দেখি একটা ইয়া বড় গোঁফ ওয়ালা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ক্লাসরুমে এসে ঢুকলো। হাসি হাসি মুখ। কিন্তু গোঁফের আড়ালে তার হাসি বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছে।
- আপনারা সবাই একটু ঠিকঠাক হয়ে বসেন তো দেখি। তারপর আসেন আমরা একটু গল্প গুজব করি।
চুলগুলো ঘাড় ছুঁই ছুঁই। খুব শীর্ণকায় দেহে বেখাপ্পা ঢোলা একটা প্যান্ট। সরু কোমর। দেখে মনে হচ্ছে একটা জীবন্ত বালুঘড়ি সারা ক্লাসময় হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছে। উনি বিভিন্নভাবে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করলেন। তার মধ্যে একটা হলো এই "আপনি আপনি" করে বলা। ছোটরা সবসময় নিজেদের বড় ভাবতে পচ্ছন্দ করে। বালুঘড়ির এটা ভালোই জানা আছে। তার আরো কিছু মনভোলানো কথার শেষে আঁকিবুকি শুরু হলো। আঁকার বিষয় আমাদের চারপাশের পৃথিবী। আমি খানিকটা মাথা চুলকে খাতাটা বের করে গালে হাত দিয়ে বসে থাকলাম। চারপাশে তো অনেক জিনিসপত্র। কোনটা ফেলে কোনটা আঁকি। তাছাড়া পৃথিবীর তুলনায় খাতাটা অনেক ছোট।
- কি আপনি আঁকছেন না কেন? মন খারাপ?
- না।
- তাহলে?
- কি আঁকবো ঠিক বুঝতে পারছি না?
- কেনো? পৃথিবী আঁকবেন। পৃথিবী দেখেছেন কখনো?
- দেখেছি।
- কোথায় দেখেছেন?
- আমাদের বাসায়। ড্রইং রুমে।
- বাহ্! তাহলে ওটাই আঁকেন।
- গোল তো আঁকতে পারি না।
- আজকে তো প্রথম দিন। তাই পুরো গোল না হলেও সমস্যা নেই।
বালুঘড়ির কথা মত কালো প্যাস্টেলটা বের করে একটা গোল আঁকলাম। এবার চারপাশের জিনিসত্র আঁকতে হবে। জিনিসপত্রের কথা ভাবতেই প্রথমেই মনে এলো মাটি। মাটি ছাড়া তো পৃথিবী সম্ভব না। গোলের ভেতরে সব মাটি। মাটির উপরে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু. . . কিন্তু . . . কিন্তু নিচের দিকে যারা আছে ওদের তো ধপাস্ করে যাওয়ার কথা। তাহলে?
তাহলে কি নিচে কেউ থাকে না? মেটে রঙটা হাতে নিয়ে দাগ দিতে যাব, এমন সময় মনে পড়লো সমাজ বইয়ের কথা - পৃথিবীর তিনভাগ জল, একভাগ স্হল। মা বলেছে - স্হল মানে মাটি, জল মানে পানি। এইরে! তাইলে তো পানিও দেয়া লাগবে। গাঢ় নীলটা বের করি। গোলটার তিনভাগ এই রঙ দিতে হবে। কিন্তু পৃথিবীর সাথে পানিটা লেগে আছে কিভাবে? মাটি নাহয় লেগে আছে বুঝলাম, কিন্তু পানি তো ঝপাস্ করে পড়ে যাওয়ার কথা। তাহলে?
তাহলে আর কি? পৃথিবীটা আসলে পানির উপরে ভেসে আছে। একটা অনেক বড় সমুদ্র। সমুদ্রের ভিতরে পৃথিবীর তিনভাগ ডুবে থাকে। আর উপরের একভাগে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। মাঝে মধ্যে আমারা হেঁটে হেঁটে সমুদ্রে বেড়াতে যাই। মাছ ধরি। উপরের দিকে কিছু পাহাড়। খয়েরি রঙ এর। নীল রঙের আকাশ। আকাশে সূর্য। একটা সবুজ আম গাছ। তার নিচে আমি। তারপর এই স্কুল। বাহ! নিজের বুদ্ধিমত্তায় নিজেই যেন চমকে উঠলাম।
এই করতে করতে দেখি অনেকের আঁকা শেষ হয়ে গেছে। বালুঘড়িকে মাঝখানে বসিয়ে সবাই জটলা করে ছবি দেখাচ্ছে। একেকজন পৃথিবী সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা ব্যক্ত করছে। লাল রঙের চশমা পড়া একটা মেয়ে বললো পৃথিবীতে নাকি কাকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এ নিয়ে তার দু:শ্চিন্তার কোন শেষ নেই। সে নিজেও এঁকেছে একটা মস্ত কাকের ছবি। পাশে একটা ছোট্ট পৃথিবী। কাকটা খুব আগ্রহ নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে। যেন আরেকটু হলেই খেয়ে ফেলবে।
আমি খানিকটা ভয়ে ভয়ে আমার খাতাটা এগিয়ে দিলাম। সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখতে শুরু করলো। একজন জিজ্ঞেস করলো, "কালো মতন জিনিসটা কি?" আমি বললাম, "ঐটা আমি। আম গাছের নিচের দাঁড়িয়ে আছি।" তখন লাল রঙের চশমা পড়া মেয়েটা বললো, "আম গাছের নিচে আর কখনো দাঁড়িয়ো না। কাকে পু করে দিবে।" আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমার মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে।
বালুঘড়ি তার চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বললো, "তা, আপনি পানিতে ভেসে ভেসে কোথায় যাচ্ছেন?" আমি বললাম, "পৃথিবী যে দিকে যাচ্ছে ঐদিকে।" কে যেন জিজ্ঞেস করলো, "এতো পানি কোত্থেকে এলো?" আমি তখন সমাজ বইয়ের তিন ভাগ একভাগ ব্যাপারটা খুলে বললাম। এটা শুনে দেখি বালুঘড়ি জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো। এবারও গোঁফের নিচে তার হাসি চাপা পড়ে গেলো। কোন একটা অদ্ভুত কারনে লোকটাকে আমার খুব ভালো লেগে গেলো। তার হাসি আড়াল করা গোঁফটাকেও। আরো কয়েকজনের ছবি দেখার পরে বালুঘড়ি বললো, "আমাদের এখানে একটা লাইব্রেরি আছে। আপনারা চাইলে ওখানে ঘুরে দেখতে পারেন। আর এখন আপনাদের ছুটি!"
ছুটি শব্দটার সাথে সবসময় একটা মন ভালো করা ব্যাপার থাকে। যথারীতি আমারও
মন ভালো হয়ে গেলো। কিন্তু বাইরে বের হতেই দেখি চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝড়ো বাতাসে মাঠের ধুলো উড়ছে। গেটের কাছে আঙ্কেল আন্টিদের জটলা। কিন্তু মা'কে কোথাও দেখতে পেলাম না। একটু পরেই ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। আমি তবু বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। মা আসলে যেন দূর থেকে আমাকে দেখতে পায়। ক্লাসরুমের টিনের চালে তুমুল শব্দ হতে লাগলো। আমি এতো জোরে বৃষ্টির শব্দ আগে কখনো শুনিনি।
ছুটির দিনে ঘুম হারানোর চেয়ে শোকাতুর বিষয় আর কিইবা হতে পারে? আমার এই এলোমেলো, ইতস্তত পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য আসলে মা'র প্রতি একটা মৌন স্মারকলিপি লেখা। শান্তি নিকেতনির ঝাড়ু হয়ে ওঠা এই স্মারকলিপির একটা অংশ মাত্র। মা ছোটবেলা থেকেই খুব বুদ্ধিমতী ছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তা আমার মুখ ফুটে বেরুবার আগেই অনায়াসে বুঝে ফেলতেন। এবারও তার অন্যথা হলো না। আমার ঝাড়ুদার হয়ে ওঠার প্রবৃত্তি তার চোখে ধরা পড়ে গেলো। "ছেলে ঝাড়ুদার হতে চাইছে" এটা নিশ্চয় কোন মা'ই সজ্ঞানে মেনে নিবেন না। আমার মাও নিলেন না এবং তৎক্ষণাৎ আমার শান্তি নিকেতনির কাঁধের ঝুলে একটা বড় গিট্টু মেরে দিলেন। ওবেচারা দৈর্ঘ্যে ও গাম্ভীর্যে ছোট হয়ে গিয়ে গোঁড়ালি থেকে আমার হাঁটুতে উঠে এলো। আমিও ঝাড়ুদার থেকে আর্টিস্ট বনে গেলাম।
সামনে একটা ছোট মাঠ। মাঠ পারলেই ক্লাসরুম। ক্লাসের নাম-হাসিখুশি। আমার মত যেসব ছোট্ট বাচ্চা চোখ কচলে, হাঁড়িমুখ করে বাসা থেকে একগাদা মন খারাপের দিস্তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এখানে ছবি আঁকতে আসে, মূলত: ওদের জন্যেই এই ক্লাস।
ক্লাসের বেঞ্চিগুলো বেঢপ সাইজের। বসে থেকে টেবিল নাগাল পেতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে। কিছু আর্টিস্ট দেখি হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে টেবিলের উপরেই বসে পড়েছে। কি সাংঘাতিক অভদ্র লোকজন! আমি কিছুক্ষণ জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকি। মা'কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। খানিকটা আকাশ আড়াল করা আম গাছটাকে দেখা যাচ্ছে। আম গাছে অনেক কাকের বাসা দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ দেখি একটা ইয়া বড় গোঁফ ওয়ালা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ক্লাসরুমে এসে ঢুকলো। হাসি হাসি মুখ। কিন্তু গোঁফের আড়ালে তার হাসি বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছে।
- আপনারা সবাই একটু ঠিকঠাক হয়ে বসেন তো দেখি। তারপর আসেন আমরা একটু গল্প গুজব করি।
চুলগুলো ঘাড় ছুঁই ছুঁই। খুব শীর্ণকায় দেহে বেখাপ্পা ঢোলা একটা প্যান্ট। সরু কোমর। দেখে মনে হচ্ছে একটা জীবন্ত বালুঘড়ি সারা ক্লাসময় হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছে। উনি বিভিন্নভাবে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা করলেন। তার মধ্যে একটা হলো এই "আপনি আপনি" করে বলা। ছোটরা সবসময় নিজেদের বড় ভাবতে পচ্ছন্দ করে। বালুঘড়ির এটা ভালোই জানা আছে। তার আরো কিছু মনভোলানো কথার শেষে আঁকিবুকি শুরু হলো। আঁকার বিষয় আমাদের চারপাশের পৃথিবী। আমি খানিকটা মাথা চুলকে খাতাটা বের করে গালে হাত দিয়ে বসে থাকলাম। চারপাশে তো অনেক জিনিসপত্র। কোনটা ফেলে কোনটা আঁকি। তাছাড়া পৃথিবীর তুলনায় খাতাটা অনেক ছোট।
- কি আপনি আঁকছেন না কেন? মন খারাপ?
- না।
- তাহলে?
- কি আঁকবো ঠিক বুঝতে পারছি না?
- কেনো? পৃথিবী আঁকবেন। পৃথিবী দেখেছেন কখনো?
- দেখেছি।
- কোথায় দেখেছেন?
- আমাদের বাসায়। ড্রইং রুমে।
- বাহ্! তাহলে ওটাই আঁকেন।
- গোল তো আঁকতে পারি না।
- আজকে তো প্রথম দিন। তাই পুরো গোল না হলেও সমস্যা নেই।
বালুঘড়ির কথা মত কালো প্যাস্টেলটা বের করে একটা গোল আঁকলাম। এবার চারপাশের জিনিসত্র আঁকতে হবে। জিনিসপত্রের কথা ভাবতেই প্রথমেই মনে এলো মাটি। মাটি ছাড়া তো পৃথিবী সম্ভব না। গোলের ভেতরে সব মাটি। মাটির উপরে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। কিন্তু. . . কিন্তু . . . কিন্তু নিচের দিকে যারা আছে ওদের তো ধপাস্ করে যাওয়ার কথা। তাহলে?
তাহলে কি নিচে কেউ থাকে না? মেটে রঙটা হাতে নিয়ে দাগ দিতে যাব, এমন সময় মনে পড়লো সমাজ বইয়ের কথা - পৃথিবীর তিনভাগ জল, একভাগ স্হল। মা বলেছে - স্হল মানে মাটি, জল মানে পানি। এইরে! তাইলে তো পানিও দেয়া লাগবে। গাঢ় নীলটা বের করি। গোলটার তিনভাগ এই রঙ দিতে হবে। কিন্তু পৃথিবীর সাথে পানিটা লেগে আছে কিভাবে? মাটি নাহয় লেগে আছে বুঝলাম, কিন্তু পানি তো ঝপাস্ করে পড়ে যাওয়ার কথা। তাহলে?
তাহলে আর কি? পৃথিবীটা আসলে পানির উপরে ভেসে আছে। একটা অনেক বড় সমুদ্র। সমুদ্রের ভিতরে পৃথিবীর তিনভাগ ডুবে থাকে। আর উপরের একভাগে আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। মাঝে মধ্যে আমারা হেঁটে হেঁটে সমুদ্রে বেড়াতে যাই। মাছ ধরি। উপরের দিকে কিছু পাহাড়। খয়েরি রঙ এর। নীল রঙের আকাশ। আকাশে সূর্য। একটা সবুজ আম গাছ। তার নিচে আমি। তারপর এই স্কুল। বাহ! নিজের বুদ্ধিমত্তায় নিজেই যেন চমকে উঠলাম।
এই করতে করতে দেখি অনেকের আঁকা শেষ হয়ে গেছে। বালুঘড়িকে মাঝখানে বসিয়ে সবাই জটলা করে ছবি দেখাচ্ছে। একেকজন পৃথিবী সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা ব্যক্ত করছে। লাল রঙের চশমা পড়া একটা মেয়ে বললো পৃথিবীতে নাকি কাকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এ নিয়ে তার দু:শ্চিন্তার কোন শেষ নেই। সে নিজেও এঁকেছে একটা মস্ত কাকের ছবি। পাশে একটা ছোট্ট পৃথিবী। কাকটা খুব আগ্রহ নিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে। যেন আরেকটু হলেই খেয়ে ফেলবে।
আমি খানিকটা ভয়ে ভয়ে আমার খাতাটা এগিয়ে দিলাম। সবাই আগ্রহ নিয়ে দেখতে শুরু করলো। একজন জিজ্ঞেস করলো, "কালো মতন জিনিসটা কি?" আমি বললাম, "ঐটা আমি। আম গাছের নিচের দাঁড়িয়ে আছি।" তখন লাল রঙের চশমা পড়া মেয়েটা বললো, "আম গাছের নিচে আর কখনো দাঁড়িয়ো না। কাকে পু করে দিবে।" আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। বুঝানোর চেষ্টা করলাম যে আমার মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে।
বালুঘড়ি তার চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বললো, "তা, আপনি পানিতে ভেসে ভেসে কোথায় যাচ্ছেন?" আমি বললাম, "পৃথিবী যে দিকে যাচ্ছে ঐদিকে।" কে যেন জিজ্ঞেস করলো, "এতো পানি কোত্থেকে এলো?" আমি তখন সমাজ বইয়ের তিন ভাগ একভাগ ব্যাপারটা খুলে বললাম। এটা শুনে দেখি বালুঘড়ি জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো। এবারও গোঁফের নিচে তার হাসি চাপা পড়ে গেলো। কোন একটা অদ্ভুত কারনে লোকটাকে আমার খুব ভালো লেগে গেলো। তার হাসি আড়াল করা গোঁফটাকেও। আরো কয়েকজনের ছবি দেখার পরে বালুঘড়ি বললো, "আমাদের এখানে একটা লাইব্রেরি আছে। আপনারা চাইলে ওখানে ঘুরে দেখতে পারেন। আর এখন আপনাদের ছুটি!"
ছুটি শব্দটার সাথে সবসময় একটা মন ভালো করা ব্যাপার থাকে। যথারীতি আমারও
মন ভালো হয়ে গেলো। কিন্তু বাইরে বের হতেই দেখি চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝড়ো বাতাসে মাঠের ধুলো উড়ছে। গেটের কাছে আঙ্কেল আন্টিদের জটলা। কিন্তু মা'কে কোথাও দেখতে পেলাম না। একটু পরেই ঝম ঝমিয়ে বৃষ্টি নামল। আমি তবু বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। মা আসলে যেন দূর থেকে আমাকে দেখতে পায়। ক্লাসরুমের টিনের চালে তুমুল শব্দ হতে লাগলো। আমি এতো জোরে বৃষ্টির শব্দ আগে কখনো শুনিনি।
জিতু ও রেণু
জিতুর সাথে প্রথম কিভাবে পরিচয় হয়েছিলো মনে নেই। সে পরিচয়ে হয়তো মনে রাখার মত তেমন কিছু ছিলো না, কিন্তু এরপরে কোন এক সময়ে এসে আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছি। তার আগে একই ছাদের নিচে টানা দু'বছর ক্লাস করেছি। একই ইউনিভার্সিটিতে আলাদা ডিপার্টমেন্টে প্রায় পাঁচ বছর পড়েছি। ক্যালেন্ডারের হিসেবে নি:সন্দেহে বেশ দীর্ঘ সময়।
কিছু মানুষ আছে যাদের হাসি দেখলেই মনে হয় "বেঁচে থাকা ব্যাপারটা নেহাৎ মন্দ নয়"। জিতু তাদের মধ্যে একজন। জিতুর হাসিতে প্রায় আমাদের মন ভালো হয়। হতাশা কাটে। দুরারোগ্য ব্যাধি সারে।
যে বিষয়টা আসলে বলার জন্যে এতক্ষণ ভণিতা করছি সেটা হলো ক'দিন আগে জিতু আমাকে একটা আবৃত্তি শুনিয়ে বিনা মেঘে টাস্কি খাইয়েছে। জিতুর অনেক গুন। তার উপরে সে যে এতো মসৃণ আবৃত্তি করে এটা আমার জানা ছিলো না। আবেগে ঘি ঢালার কারনটি আরো চাঞ্চল্যকর। জিতু আমারই লেখা একটা ছাইপাশ আবৃত্তি করেছে!
এমনিতেই আমার নিজের লেখা নিয়ে সংশয়ের কোন সীমা পরিসীমা নেই। কিন্তু জিতু'র আবৃত্তি শুনে মনে হয়েছে যাক কিছু একটা বোধ হয় দাঁড়িয়েছে। নইলে কেউ আবৃত্তি করবে কেন? জিতুকে কখনো মুখোমুখি ধন্যবাদ দেয়া হয়নি। কিছু বন্ধুত্ব ধন্যবাদ আদান প্রদানের ফরমালিটির মধ্যে আটকে থাকে না। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। দেখা হলেই হয়তো আমাদের সম্বোধণ শুরু হচ্ছে কোন জন্মপরিচয় সংশয়কারী গালি দিয়ে যেখানে কবিতার মত বিষয় আসতে একটু সময় লাগে। তাই উপায়ান্তর না দেখে আমি এই বিকল্প ব্যবস্হার দারস্থ হয়েছি এবং বলছি - জিতু তোকে অনেক থ্যাঙ্কস্।
আগেই একবার বলেছি আমাদের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় সাত বছরের মত। এই সাত বছর বয়েসী বন্ধুত্বের এখন ভরা যৌবনকাল। আমি এর চিরযৌবন কামনা করি। আরো একশ বছর পরেও এবন্ধুত্ব চিরযুবক থাকুক।
কিছু মানুষ আছে যাদের হাসি দেখলেই মনে হয় "বেঁচে থাকা ব্যাপারটা নেহাৎ মন্দ নয়"। জিতু তাদের মধ্যে একজন। জিতুর হাসিতে প্রায় আমাদের মন ভালো হয়। হতাশা কাটে। দুরারোগ্য ব্যাধি সারে।
যে বিষয়টা আসলে বলার জন্যে এতক্ষণ ভণিতা করছি সেটা হলো ক'দিন আগে জিতু আমাকে একটা আবৃত্তি শুনিয়ে বিনা মেঘে টাস্কি খাইয়েছে। জিতুর অনেক গুন। তার উপরে সে যে এতো মসৃণ আবৃত্তি করে এটা আমার জানা ছিলো না। আবেগে ঘি ঢালার কারনটি আরো চাঞ্চল্যকর। জিতু আমারই লেখা একটা ছাইপাশ আবৃত্তি করেছে!
এমনিতেই আমার নিজের লেখা নিয়ে সংশয়ের কোন সীমা পরিসীমা নেই। কিন্তু জিতু'র আবৃত্তি শুনে মনে হয়েছে যাক কিছু একটা বোধ হয় দাঁড়িয়েছে। নইলে কেউ আবৃত্তি করবে কেন? জিতুকে কখনো মুখোমুখি ধন্যবাদ দেয়া হয়নি। কিছু বন্ধুত্ব ধন্যবাদ আদান প্রদানের ফরমালিটির মধ্যে আটকে থাকে না। এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। দেখা হলেই হয়তো আমাদের সম্বোধণ শুরু হচ্ছে কোন জন্মপরিচয় সংশয়কারী গালি দিয়ে যেখানে কবিতার মত বিষয় আসতে একটু সময় লাগে। তাই উপায়ান্তর না দেখে আমি এই বিকল্প ব্যবস্হার দারস্থ হয়েছি এবং বলছি - জিতু তোকে অনেক থ্যাঙ্কস্।
আগেই একবার বলেছি আমাদের বন্ধুত্বের বয়স প্রায় সাত বছরের মত। এই সাত বছর বয়েসী বন্ধুত্বের এখন ভরা যৌবনকাল। আমি এর চিরযৌবন কামনা করি। আরো একশ বছর পরেও এবন্ধুত্ব চিরযুবক থাকুক।
|
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।
বিমনা বর্ষায় আমার ভিজে যাওয়া কবিতার থেকে
তোমার চিহ্নেরা জমা থাকে বহুদিন।
বহুদিন তুমি লাল জলগামছায় এক দুপুর ভেজা চুলে
জন্ম দিয়েছো এমন অজস্র চিহ্নের।
টবগাছে, ফুলগাছে,
আমাদের এক চিলতে বারান্দায়
ওরা কেমন আস্পর্ধায় বেড়ে ওঠে!
ইদানীং আমার অফিসেও যেমন দেখছি ওদের প্রভূত যাতায়াত।
লিফটের আয়ানায়, অপরাহ্ণের কফিমগে,
তোমাকে চিহ্নিত করি খুব অনায়াসে।
আমি চিহ্নে চিহ্নে তোমার আঙ্গিক দেখি।
কবিতার খাতায় নভেরা'র মা নামে
তোমার গোপন লিখে রাখি।
তোমাকে ভাবার সময়েরা চলে গেলেও
বহুদিন এইসব পেলবতার পলি জমে থাকে।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে -
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।
বিমনা বর্ষায়...
-------------------------------------------------------------------------------
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।
বিমনা বর্ষায় আমার ভিজে যাওয়া কবিতার থেকে
তোমার চিহ্নেরা জমা থাকে বহুদিন।
বহুদিন তুমি লাল জলগামছায় এক দুপুর ভেজা চুলে
জন্ম দিয়েছো এমন অজস্র চিহ্নের।
টবগাছে, ফুলগাছে,
আমাদের এক চিলতে বারান্দায়
ওরা কেমন আস্পর্ধায় বেড়ে ওঠে!
ইদানীং আমার অফিসেও যেমন দেখছি ওদের প্রভূত যাতায়াত।
লিফটের আয়ানায়, অপরাহ্ণের কফিমগে,
তোমাকে চিহ্নিত করি খুব অনায়াসে।
আমি চিহ্নে চিহ্নে তোমার আঙ্গিক দেখি।
কবিতার খাতায় নভেরা'র মা নামে
তোমার গোপন লিখে রাখি।
তোমাকে ভাবার সময়েরা চলে গেলেও
বহুদিন এইসব পেলবতার পলি জমে থাকে।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে -
তোমার পক্ষে একটা শ্রেষ্ঠ কবিতা যোগ করা যায়।
বিমনা বর্ষায়...
-------------------------------------------------------------------------------
এ জার্নি বাই বাস
এই রাত্রিকালীন মহাসড়কের সাথে আমার সখ্যতা বহুদিনের। স্পেসেফিকলি বলতে গেলে সেই কলেজে পড়ার সময় থেকেই। তখন এমনও দিন গেছে প্রতি সপ্তাহান্তে আমি একবার করে যাতায়াত করেছি এই মহাসড়ক ধরে। তখন আমার অলস দেহ কিংবা সে দেহের ক্লিষ্ট গতি, কোনটাই না থাকলেও গৃহের প্রতি একটা দুর্বার টান ছিল। এখনো যে নেই তা বলা যায় না। তবে বয়েসের টানে তানপুরার সুর এখন অনেক পাল্টে গেছে। মনে আছে সেদিন গলা কেমন কেঁপে কেঁপে উঠেছিলো, যেদিন আমি প্রথম শহর বদল করি। ফেলে আসা শহরটাকে আমি বহুদিন বুক পকেটে নিয়ে ঘুরেছি। নতুন শহরের দালান কোঠায়, মানুষের মুখের রেখায় উপযোজনের অনুপ্রেরণা খুঁজেছি এবং এরপর একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করেছি আমার শার্টে আর কোন বুক পকেট নেই! এ শহরে থাকতে হলে বুক পকেট রাখতে নেই। মূলত: তখন থেকেই আমার ঘরমুখী যাতায়াত গুলো উল্লেখযোগ্য হারে কমে এলো। যদিও এই রাত্রিকালীন ভ্রমণের প্রতি আমার আকর্ষণ এখনো সমান দুর্নিবার রয়ে গেছে।
দূর পাল্লার বাসের জানলায় প্রায়শই একটা বৈরাগ্যের সুর লেখা থাকে। আমার পক্ষে এর লোভ সামলানো দায়। তাই জানালার পাশের সিটটার ব্যাপারে আমি বরাবরই আপোষহীন থেকেছি। প্রয়োজনবোধে ঘন্টাখানেক কাউন্টারে কাটিয়ে দিয়েও পচ্ছন্দসই জায়গাটা না পেলে আমি বাসে উঠিনি। আজও যেমন তার অন্যথা ঘটে নি। একরাশ অন্ধকার আর মৃদু চন্দ্রালোক পাশে রেখে আমি ছুটে চলেছি পরিচিত প্রকান্ড মহাসড়ক ধরে। এসময় বাস জুড়ে থাকা ঘুমের প্রলেপ আমি স্পষ্ট টের পাই। বাসটাকে তখন একটা গহিন ঘুমপুরী মনে হয়। জানলার ফাঁক গলে শীতল বাতাস ঢুকে পড়ে। আমার শরীর জুড়োয়। আইপড্ শাফলের সাথে আমার মুডও শাফলড্ হয়, বিভিন্ন ভাবনারা দল বেঁধে আসে। মুড শাফলড্ হয়েও অবশ্য বেশি দূরে যাওয়ার উপায় থাকে না। কারন ট্র্যাক গুলো খুব যত্ন করে আমারই সিলেক্ট করা। যাত্রাকালীন বৈরাগ্য সাধনে এটা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গের মত।
অধিকাংশ সময় ধরে আমি জানলার দিকে তাকিয়ে থাকি। কখনো একটা জঙ্গলের মতন, কখনো ক্ষেত, কখনো সেতু, কখনো একটা থমকে থাকা বিস্তীর্ণ মেঘ আমি পলকে পেরিয়ে যাই। অথচ আমার যে খুব তাড়া আছে এমন নয়। অন্ধকার ফুঁড়ে আসা ছোট ছোট আলো চোখে পড়ে। সাথে ছোট ছোট ছাউনির ঘর, পুকুরের পাড়। একেকটা দ্বীপের মত বাড়ি। কখনো একটা সরু মেঠো পথ যেন আলগোছে নেমে হঠাৎ হারিয়ে গেলো। পাশে একটা টিনের ছাউনি, বসবার বেঞ্চি। চায়ের দোকান। এবং আরো আরো অস্পষ্ট ঘুমন্ত জনপদ। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ওদের। কোন এক অজানা কারনে আমার কেবলই মনে হতে থাকে এরা পৃথিবীর সবচে' সুখী মানুষের দল। কি আশ্চর্য নৈ:শব্দে ঘুমিয়ে আছে। নাগরিক সব জটিলতা ভুলে কি সাধারন থেকে গেছে। এমন ভাবনা আমাকে প্রায় কাতর করে তোলে। আমি তখন বাসে বসে বসে অনেক শূন্যতা ভাবি আর একটা কিছু না পাওয়ার বেদনায় ক্রমশ: বিলাসি হই।
"মহাসড়কের সাথে সখ্যতা" ব্যাপারটা আসলে আমার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। কারন আমি এর পার্থিব দিক গুলোর ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন থেকেছি। আমার কখনোই জানতে ভালো লাগে নি - বাস এখন কোন এলাকায় চলছে, কিংবা এই জায়গাটার নাম কি? বা সচরাচর অন্যান্য ভৌগলিক বিষয়। আমি এই পথে প্রচুর নদী উপভোগ করেছি সত্যি। কিন্তু খুব সচেতনভাবে তাদের নামটা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। নদীর উপর জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো। নৌকার সংসার। দূরবর্তী জাহাজের আভাস, বালি তোলার ডিঙ্গি আর সেতুর সারি বাঁধা সোডিয়াম আলোয় আমি মেকি রহস্য বুনি। বহু আগে শোনা একটা রবীন্দ্রনাথের গানে নতুন করে বিভোর হই।
দূর পাল্লার বাসের জানলায় প্রায়শই একটা বৈরাগ্যের সুর লেখা থাকে। আমার পক্ষে এর লোভ সামলানো দায়। তাই জানালার পাশের সিটটার ব্যাপারে আমি বরাবরই আপোষহীন থেকেছি। প্রয়োজনবোধে ঘন্টাখানেক কাউন্টারে কাটিয়ে দিয়েও পচ্ছন্দসই জায়গাটা না পেলে আমি বাসে উঠিনি। আজও যেমন তার অন্যথা ঘটে নি। একরাশ অন্ধকার আর মৃদু চন্দ্রালোক পাশে রেখে আমি ছুটে চলেছি পরিচিত প্রকান্ড মহাসড়ক ধরে। এসময় বাস জুড়ে থাকা ঘুমের প্রলেপ আমি স্পষ্ট টের পাই। বাসটাকে তখন একটা গহিন ঘুমপুরী মনে হয়। জানলার ফাঁক গলে শীতল বাতাস ঢুকে পড়ে। আমার শরীর জুড়োয়। আইপড্ শাফলের সাথে আমার মুডও শাফলড্ হয়, বিভিন্ন ভাবনারা দল বেঁধে আসে। মুড শাফলড্ হয়েও অবশ্য বেশি দূরে যাওয়ার উপায় থাকে না। কারন ট্র্যাক গুলো খুব যত্ন করে আমারই সিলেক্ট করা। যাত্রাকালীন বৈরাগ্য সাধনে এটা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গের মত।
অধিকাংশ সময় ধরে আমি জানলার দিকে তাকিয়ে থাকি। কখনো একটা জঙ্গলের মতন, কখনো ক্ষেত, কখনো সেতু, কখনো একটা থমকে থাকা বিস্তীর্ণ মেঘ আমি পলকে পেরিয়ে যাই। অথচ আমার যে খুব তাড়া আছে এমন নয়। অন্ধকার ফুঁড়ে আসা ছোট ছোট আলো চোখে পড়ে। সাথে ছোট ছোট ছাউনির ঘর, পুকুরের পাড়। একেকটা দ্বীপের মত বাড়ি। কখনো একটা সরু মেঠো পথ যেন আলগোছে নেমে হঠাৎ হারিয়ে গেলো। পাশে একটা টিনের ছাউনি, বসবার বেঞ্চি। চায়ের দোকান। এবং আরো আরো অস্পষ্ট ঘুমন্ত জনপদ। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে ওদের। কোন এক অজানা কারনে আমার কেবলই মনে হতে থাকে এরা পৃথিবীর সবচে' সুখী মানুষের দল। কি আশ্চর্য নৈ:শব্দে ঘুমিয়ে আছে। নাগরিক সব জটিলতা ভুলে কি সাধারন থেকে গেছে। এমন ভাবনা আমাকে প্রায় কাতর করে তোলে। আমি তখন বাসে বসে বসে অনেক শূন্যতা ভাবি আর একটা কিছু না পাওয়ার বেদনায় ক্রমশ: বিলাসি হই।
"মহাসড়কের সাথে সখ্যতা" ব্যাপারটা আসলে আমার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। কারন আমি এর পার্থিব দিক গুলোর ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন থেকেছি। আমার কখনোই জানতে ভালো লাগে নি - বাস এখন কোন এলাকায় চলছে, কিংবা এই জায়গাটার নাম কি? বা সচরাচর অন্যান্য ভৌগলিক বিষয়। আমি এই পথে প্রচুর নদী উপভোগ করেছি সত্যি। কিন্তু খুব সচেতনভাবে তাদের নামটা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি। নদীর উপর জোনাকির মত বিন্দু বিন্দু আলো। নৌকার সংসার। দূরবর্তী জাহাজের আভাস, বালি তোলার ডিঙ্গি আর সেতুর সারি বাঁধা সোডিয়াম আলোয় আমি মেকি রহস্য বুনি। বহু আগে শোনা একটা রবীন্দ্রনাথের গানে নতুন করে বিভোর হই।
অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট
সমুদ্রচারী ডুবুরীরা নেমে দেখছেন স্নানের সঞ্চালন
এবং তাহার নদীরূপ।
দেখছেন স্থির জলরাশিতে নিমগ্ন মারমেইড।
রাতের রুমালে উড়ে গেছে যাদের সামুদ্রিক ঘুম
অন্য কোন সমুদ্রে,
আর কোন নাবিকের কাছে।
প্রিয় পাপ মনে রেখে তুমিও যৌন হয়ে ওঠো এমন।
বেঁচে থাকো বহুদিন পতনের অবসাদে।
দ্যাখো টেবিল ঘড়ির কাঁটায় আমাদের সব যৌনতা লেখা আছে।
যার অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট।
-------------------
এবং তাহার নদীরূপ।
দেখছেন স্থির জলরাশিতে নিমগ্ন মারমেইড।
রাতের রুমালে উড়ে গেছে যাদের সামুদ্রিক ঘুম
অন্য কোন সমুদ্রে,
আর কোন নাবিকের কাছে।
প্রিয় পাপ মনে রেখে তুমিও যৌন হয়ে ওঠো এমন।
বেঁচে থাকো বহুদিন পতনের অবসাদে।
দ্যাখো টেবিল ঘড়ির কাঁটায় আমাদের সব যৌনতা লেখা আছে।
যার অবশেষে তুমি এক সুপেয় সিগারেট।
-------------------
মৌনতা হনন
মৌনতা হনন
বিমান বন্দরেরও একটা পরিমিতি আছে কোথাও
নৌকো বিদ্যা সমেত মেখলা মরে গেলে
একদিন চোখে পড়ে যাবে সব
পাখিদের প্রতিলিপি।
আমাদের জানা হবে
উড্ডয়নের সমস্ত কৌশল
শূন্য থেকে ততোধিক শূন্যে
বিপুল জেগে উঠবে সব মৌনতা হনন।
পতঙ্গ ঘুমের ক্যাম্পেইন তুমি
রানওয়ে জুড়ে পড়ে থেকো পতঙ্গের মতন।
----------------------------------------
বিমান বন্দরেরও একটা পরিমিতি আছে কোথাও
নৌকো বিদ্যা সমেত মেখলা মরে গেলে
একদিন চোখে পড়ে যাবে সব
পাখিদের প্রতিলিপি।
আমাদের জানা হবে
উড্ডয়নের সমস্ত কৌশল
শূন্য থেকে ততোধিক শূন্যে
বিপুল জেগে উঠবে সব মৌনতা হনন।
পতঙ্গ ঘুমের ক্যাম্পেইন তুমি
রানওয়ে জুড়ে পড়ে থেকো পতঙ্গের মতন।
----------------------------------------
সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়
সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়
সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়।
--------------------------------------------------------------------------------
সমুদ্রে গেলে তার ব্যাপারে কথা হয়।
হেলানো বেতের চেয়ারে বসে
আমরা যূথবদ্ধভাবে তাকে মনে করি।
তখন আমাদের মধ্যেই কেউ একজন বলে ওঠে -
সে ছিলো মূলতঃ একটা শামুক।
কেউ বলেছিলো, একটা ইটালিয়ান ছবি।
কেউবা স্কচের বোতল।
আবার এমনো শোনা গেছে
বন্ধ্যা নীল তিমিটা'র মত
সে ছিলো অনেক নি:সন্তান।
অথচ সেই সূত্রে সমুদ্রে গেলেই
আমাদের তার কথা মনে পড়ে।
ঠান্ডা শীতের রাতগুলোতে
আমরা যাকে কখনোই পাইনি পানীয় বাটোয়ারায়,
কফিন ভর্তি করে সমস্ত হিম নিয়ে
যে চলে গেছে যোজন দূরে,
আজ এই নীহার নীহার আবহাওয়ায়
সে ক্রমাগত আমাদের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।
আমরা যূথবদ্ধভাবে তাকে মনে করি।
তখন আমাদের মধ্যেই কেউ একজন বলে ওঠে -
সে ছিলো মূলতঃ একটা শামুক।
কেউ বলেছিলো, একটা ইটালিয়ান ছবি।
কেউবা স্কচের বোতল।
আবার এমনো শোনা গেছে
বন্ধ্যা নীল তিমিটা'র মত
সে ছিলো অনেক নি:সন্তান।
অথচ সেই সূত্রে সমুদ্রে গেলেই
আমাদের তার কথা মনে পড়ে।
ঠান্ডা শীতের রাতগুলোতে
আমরা যাকে কখনোই পাইনি পানীয় বাটোয়ারায়,
কফিন ভর্তি করে সমস্ত হিম নিয়ে
যে চলে গেছে যোজন দূরে,
আজ এই নীহার নীহার আবহাওয়ায়
সে ক্রমাগত আমাদের বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------------------------------------------
আঙুলে অসুখ
আঙুলে অসুখ
অতি নিকটের মৃত সংবাদেও
আমি আজ কুশল বিনিময় করছি।
নির্মোহে দেখছি বাড়ি ভর্তি সব লোকজন।
বিভিন্ন ভাবে যারা আজ
খুব বিষণ্ন হয়ে উঠেছেন
মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন
একেকটা শোকের
কিংবা শবের।
সে তুলনায় আমার কোন কাজ নেই আজ।
নেই কোন ভঙ্গিমা উল্লেখিত বিষাদের।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে একটা আঙুল
ও তার অসুখের কথা।
নখেদের ঘর বাড়ি রোদে
হারানো গিয়েছে যে মসৃণতা
সেখানে খুন হলো যেন
বিপুল শোক প্রবণতা।
---------------------------------------
অতি নিকটের মৃত সংবাদেও
আমি আজ কুশল বিনিময় করছি।
নির্মোহে দেখছি বাড়ি ভর্তি সব লোকজন।
বিভিন্ন ভাবে যারা আজ
খুব বিষণ্ন হয়ে উঠেছেন
মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন
একেকটা শোকের
কিংবা শবের।
সে তুলনায় আমার কোন কাজ নেই আজ।
নেই কোন ভঙ্গিমা উল্লেখিত বিষাদের।
আমার কেবলই মনে হতে থাকে একটা আঙুল
ও তার অসুখের কথা।
নখেদের ঘর বাড়ি রোদে
হারানো গিয়েছে যে মসৃণতা
সেখানে খুন হলো যেন
বিপুল শোক প্রবণতা।
---------------------------------------
নৌভ্রমণ
নৌভ্রমণ
মুখবই জুড়ে গঠিত হয়েছে
সহস্র ঘুম।
কিটারোর মৌন অবসাদ।
আমাকে জড়িত করে তোলে এমন
প্রিয় মুখে পাখির মত রাত
বিশ্রাম খোঁজে চোখ।
রচিত করে
ঘুমের নৌভ্রমণ!
-------------------
মুখবই জুড়ে গঠিত হয়েছে
সহস্র ঘুম।
কিটারোর মৌন অবসাদ।
আমাকে জড়িত করে তোলে এমন
প্রিয় মুখে পাখির মত রাত
বিশ্রাম খোঁজে চোখ।
রচিত করে
ঘুমের নৌভ্রমণ!
-------------------
আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল
আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল
আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল।
যদিও সেদিন তুমি হেসেছিলে প্রচুর।
সেই সোমবার বর্ষায় অনন্য নীলক্ষেতে
মুখে আর অবয়বে
কি ভীষণ অবগত ছিলে তুমি।
একটা বিষাদের মেঘ সম্পর্কে
ট্রাফিকের শহর
যখন বেলুন গাড়িতে চাপে
অনেক মেদুর হতে চেয়েও
আমাদের জানা হলো না কোন বিস্তারিত ঘুম।
ফলে তোমার সমস্ত গহন জুড়ে
আমি শুধু বিষাদ-ই ধারণা করি, জল কেলি।
---------------------------
আমি বিষাদ দেখেছি এমন মনলোভা নীল।
যদিও সেদিন তুমি হেসেছিলে প্রচুর।
সেই সোমবার বর্ষায় অনন্য নীলক্ষেতে
মুখে আর অবয়বে
কি ভীষণ অবগত ছিলে তুমি।
একটা বিষাদের মেঘ সম্পর্কে
ট্রাফিকের শহর
যখন বেলুন গাড়িতে চাপে
অনেক মেদুর হতে চেয়েও
আমাদের জানা হলো না কোন বিস্তারিত ঘুম।
ফলে তোমার সমস্ত গহন জুড়ে
আমি শুধু বিষাদ-ই ধারণা করি, জল কেলি।
---------------------------
The Three Bushes
The Three Bushes
১.
আপাত ম্রিয়মাণ থেকেও
হাওয়ার বেগে চলে গেছে
নিদ্রাবাহী ম্যাটাডর।
ফলে গোলাপের আশা করে
কেউ মিলিত হচ্ছে না আর।
চোখের সংকেতে জাগছে না
কোন বিশেষ ঘুমের লেপন।
পাহাড়ের মত নির্ঘুম কেটে যাচ্ছে
একেকটি বিশ্বস্ত রাত!
নদীপথে পানসি আসবে জেনেও হায়
আমাদের রাতগুলো আর ঘুমন্ত হচ্ছে না মোটেই।
------------------------------------------
২.
রোদ সম্পন্ন কেবিন থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
চিলপাখির নখে হেলে পড়া পোর্সিলিন
দুপুরের জাহাজে বয়ে আনে সঙ্গীত
আরো দূরবর্তী বন্দরে
যেন আমিও শুনেছি কত
এই হাওয়ার বায়েন
কোন এক উত্তুরে বাতাসে
আমার চুল থেকে বিষাদেরা খসে পড়ে
ঢেউয়ের মত এসে যারা
পুনরায় জড়ো হল পায়ে
খুব উত্তাপের খাতিরে ওরা
আর ভেসে গেলো না কেউই।
-------------------------
৩.
প্রিয় পাপ মনে থাকতেই
এসো গহীন গোলাপ হই।।
বাগানের পথে মৃত চোখ হই সমূহ চুম্বনে।
আমাদের স্পর্শেরা জমা থাক রূপসী দরজায়।
দেখো আহত পাখির পালক
দাগ রেখে গেছে কারো ময়ূর বিষাদে।
এই মাংস মুখ্য বেডরুমে
তাই প্রজাপতি মরে গেলেই
এসো পায়ে পায়ে জলীয় হই।
-------------------------
১.
আপাত ম্রিয়মাণ থেকেও
হাওয়ার বেগে চলে গেছে
নিদ্রাবাহী ম্যাটাডর।
ফলে গোলাপের আশা করে
কেউ মিলিত হচ্ছে না আর।
চোখের সংকেতে জাগছে না
কোন বিশেষ ঘুমের লেপন।
পাহাড়ের মত নির্ঘুম কেটে যাচ্ছে
একেকটি বিশ্বস্ত রাত!
নদীপথে পানসি আসবে জেনেও হায়
আমাদের রাতগুলো আর ঘুমন্ত হচ্ছে না মোটেই।
------------------------------------------
২.
রোদ সম্পন্ন কেবিন থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
চিলপাখির নখে হেলে পড়া পোর্সিলিন
দুপুরের জাহাজে বয়ে আনে সঙ্গীত
আরো দূরবর্তী বন্দরে
যেন আমিও শুনেছি কত
এই হাওয়ার বায়েন
কোন এক উত্তুরে বাতাসে
আমার চুল থেকে বিষাদেরা খসে পড়ে
ঢেউয়ের মত এসে যারা
পুনরায় জড়ো হল পায়ে
খুব উত্তাপের খাতিরে ওরা
আর ভেসে গেলো না কেউই।
-------------------------
৩.
প্রিয় পাপ মনে থাকতেই
এসো গহীন গোলাপ হই।।
বাগানের পথে মৃত চোখ হই সমূহ চুম্বনে।
আমাদের স্পর্শেরা জমা থাক রূপসী দরজায়।
দেখো আহত পাখির পালক
দাগ রেখে গেছে কারো ময়ূর বিষাদে।
এই মাংস মুখ্য বেডরুমে
তাই প্রজাপতি মরে গেলেই
এসো পায়ে পায়ে জলীয় হই।
-------------------------
আমাদের জানলার পাশে একটা আকাশ ঢাকার তোড়জোড় চলছে
আমাদের জানলার পাশে
একটা আকাশ ঢাকার তোড়জোড় চলছে।
সেখানে অবিরাম বেড়ে উঠেছে দালান।
সশব্দ নির্মাণ কাজ।
পাখিদের মৌনতা ভেঙে দিয়ে
শ্রমিকের আনাগোনা।
দ্যাখো, সবদিক কেমন মুখর মুখর!
ভাবছি ভোরগুলোকে নিয়ে।
প্রায় পাথর হবার আশঙ্কায়
দাগ ফেলছি কপালে,
টেবিলে,
কবিতার খেরোখাতায়।
জানি এই শীতে রোদ পড়বে না আর।
পড়ন্ত বিকেলে চশমার ছায়া
দীর্ঘ হবে না মোটেই ।
নারিকেলের পাতায় ইদানীং মন বসছে না আর।
অন্তত: কিছু একটা লিখবার আগে
আগেকার মত।
----------------------
খুব রোদ
খুব রোদ
শহরে খুব রোদ।
রোদের দরুন গলে গেছে বিলবোর্ড;
প্রসাধনের বিজ্ঞাপন।
সচরাচর ভিড় নেই তেমন।
চত্বরে কিংবা খোলা ময়দানে
চিমনির মত ঋজু দাঁড়িয়ে থাকে
ফ্ল্যাটবাড়িগুলো;
গলনের আশঙ্কায় ফুটন্ত ফুটপাথ।
আর সব অবসন্ন দুপুরে
সকলে কেমন চুপচাপ
রোদবন্দী হয়ে থাকে শুধু।
গোলাপী ছাতার যুবতী
মসৃণ ভ্রু বেয়ে তার
বয়ে গেছে তাপের নদী।
----------------------------------
শহরে খুব রোদ।
রোদের দরুন গলে গেছে বিলবোর্ড;
প্রসাধনের বিজ্ঞাপন।
সচরাচর ভিড় নেই তেমন।
চত্বরে কিংবা খোলা ময়দানে
চিমনির মত ঋজু দাঁড়িয়ে থাকে
ফ্ল্যাটবাড়িগুলো;
গলনের আশঙ্কায় ফুটন্ত ফুটপাথ।
আর সব অবসন্ন দুপুরে
সকলে কেমন চুপচাপ
রোদবন্দী হয়ে থাকে শুধু।
গোলাপী ছাতার যুবতী
মসৃণ ভ্রু বেয়ে তার
বয়ে গেছে তাপের নদী।
----------------------------------
পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায়
পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায়
পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায়
ঘুমহীন কেটে গেছে আমাদের লীন রাত
দেয়ালে মথের মুখ দেখা হবে জেনে
দারুণ জেগেছে আজ।
এই ব্যালকনি-মনস্কতায়
তুমি তো প্রণয়প্রার্থী মথ
ডানার বিলাপে আদর চেয়েছো
বামন নক্ষত্রের কাছে
দেখোনি নিপাট মৃতদের উদাহরণ।
দেখোনি গৃহত্যাগী প্রসঙ্গে
আমিও কেমন যুগপৎ শুয়েছিলাম
নীল টাইলসের ফ্লোরে।
পতঙ্গের পাহাড়ে!
------------------------------
পতঙ্গেরা উড়ে আসুক এই প্রবণতায়
ঘুমহীন কেটে গেছে আমাদের লীন রাত
দেয়ালে মথের মুখ দেখা হবে জেনে
দারুণ জেগেছে আজ।
এই ব্যালকনি-মনস্কতায়
তুমি তো প্রণয়প্রার্থী মথ
ডানার বিলাপে আদর চেয়েছো
বামন নক্ষত্রের কাছে
দেখোনি নিপাট মৃতদের উদাহরণ।
দেখোনি গৃহত্যাগী প্রসঙ্গে
আমিও কেমন যুগপৎ শুয়েছিলাম
নীল টাইলসের ফ্লোরে।
পতঙ্গের পাহাড়ে!
------------------------------
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)