মিটিং টেবিলের ওপাশে

মিটিং টেবিলের ওপাশে



ওপাশে কেউ নেই
ওপাশে দেরি হবে।
ট্রাফিকে.. ছোট মেয়েটা'র স্কুলে..
ওপাশে আরো সময় লাগবে।
ওপাশে ড্রাইভার ছুটিতে..
তাই দেরি হবে।
মিটিং শুরুর প্রাক্কালে 
ওপাশে ইউথেনেশিয়া।  

অপেক্ষালীন দর্শকের চোখ 
ওপাশে গুলশান গুলশান! 
বাইরে তাকিয়ে দেখে 
পাছা প্যানোরমা।

দক্ষিণ দিকের বায়ুপ্রবাহ এসে
ওপাশে উড়িয়ে দিচ্ছে মিটিং এজেন্ডা।
চেয়ারের হাতলে 
ফুটে আছে মালতীর ফুল, 
থোকা-থোকা অনুপস্থিতি।   
ওপাশের নীরবতা চুরমার করে  
বড়জোড় এক কাপ কফি চাওয়া যায়।
বিরক্তির স্ফুটনাংকে উত্তপ্ত
এক কাপ মেরুন কফি।
-----------------------


এন্ড্রোমিডা



অনন্তকাল এখানে থাকতে আসি নি। 
বিপন্ন রাত পোহালেই চলে যাবো
তোমার বিউটি বোনের বিন্যাস ভুলে, 
লিপি লাবণ্য ভুলে, 
পুরনো বন্ধুর হাত ধরে চলে যাব। 

শিউলি ফুলের হাসি দেখো
ক্যালেন্ডারে লেগে আছে উজ্জ্বল।
বৃদ্ধ টিকটিকি'র দল
এখনো জুতোর বাক্সে খুটখাট।


শিশুর মত অভিমান নিয়ে চলে যাব।


অভিনব চিন্তার সারস ভুলে
এমন উত্থান রহিত হয়ে
অনন্তকাল এখানে থাকতে আসি নি।
তার চে' ভালো অকাল প্রয়াত হবো।
প্রিয় পরিসর ছেড়ে বিজনে, 
আরো বিজনে যাবো। 
------------------------------------------


গভীর সমুদ্র বন্দর

গভীর সমুদ্র বন্দর


'দিন হলো একটা নিঃসঙ্গ গাঙচিল আমাদের ভ্যান্টিলেটরে বাসা বেঁধেছে। সেই থেকে দেখছি তার তীক্ষ্ম নখে আয়না'র মত বিঁধে গেছে শহরের সমস্ত মনোযোগকথোপকথনের জ্যামিতি। বিশেষ করে এমন বর্ষার মৌসুমে যখন অফিস ছুটির পরে কারুরই তেমন কিছু করার থাকে নাতখন এই আগন্তুক গাঙচিলটি যেন সবার জন্যে একটা প্রাঞ্জল উপলক্ষ্য হয়ে ওঠে। ইদানীং অনেকেই যেমন দলবেঁধে তার গল্প শুনতে আসে। অনেকেই আবার আসে না।
শুনেছি নিঃসঙ্গ গাঙচিল প্রতিরাতে একটা গভীর সমুদ্র বন্দরের গল্প বলে। যে গল্পে শালিকের চোখে দীর্ঘ শীতকাল ঘুরে বেড়ায়। যে গল্পে অতল জলরাশি এসে ভিড় করে দরজার কাছে, গহীন ঝাউবনে; মা নীলতিমি ঘুমিয়ে পড়ে শামুকের গহ্বরে। যে গল্পে গভীর সমুদ্র বন্দরেরও পত্রমিতা থাকে। তার নীল খামে লেখা থাকে নির্জনতানভোচারী'র মত একাকী বেঁচে থাকার অনুপম সব মেথডোলজি। 
সমুদ্র পাড়ি দেয়া নিঃসঙ্গ গাঙচিল হায়! তার মুখে এই সব শুনে শুনে আমাদেরও চোখ চকচক করে উঠে। এক আশ্চর্য, দুর্লভ জনহীনতা আমাদের মনে প্রচন্ডভাবে জেগে থাকে। কাউকে কাউকে ডুকরে কাঁদায়। 
-------------------------------------------