চুপচাপ বিপাশায়

চুপচাপ বিপাশায়




বেশি বয়সের প্রেম জাগে মনে।

নিবিষ্ট ভ্রমণের আগে

তোমাকে ডেকে নিচ্ছে যে মেঘ, 


আগ্রহী বিটোফেন। 

ঘুমপ্রিয় মানুষের মন

ঢলে পড়ছে চিবুকের নিচে,

তোমার নিঃশ্বাসে, 
শাড়ির ভাঁজে 

ঢুকে পড়ছে সন্তানের বেশে


শরীর ও শিউলি'র কাছে 

নিঃশেষে নতজানু। 

পিয়ানোর ধার ঘেঁষে দূরে

মাতৃসুলভ তুমি।

প্রসন্ন কানের দুল

যখন নুয়ে আসে ধীরে

এই মেঘলা মেট্রোপলিসে।

--

২/১১/২০১৭

গল্পঃ ড্রাইভারনী (প্রথম পর্ব)

মূল গল্পঃ Drive My Car
বইঃ Men Without Women
লেখকঃ Haruki Murakmai



(১)


পৃথিবীর সব মেয়ে-ড্রাইভারদের আসলে দুইটা গ্রুপে ভাগ করা যায়ঃ এক দল হলেন ওভার কনফিডেন্ট; 'গাঁয়ে-মানে-না-আপনি-মোড়ল' প্রকৃতির - যারা আশপাশের কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে সবসময় বেপরোয়া গাড়ি চালান এবং যথারীতি নানা ধরনের বিপত্তি ঘটান। রাস্তাঘাটের সাধারন পথচারী কিংবা অন্য যানবাহনের যাত্রী অথবা চালকদের তীব্র (অশ্লীল?) কটাক্ষেও এদের মোটেই বিচলিত হতে দেখা যায় না। ভাবখানা এমন যে রাস্তাটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আর অন্য দল হলেন ভীষণ ভীতু প্রকৃতির - খুব দেখেশুনে, যত্ন করে, ধীরে সুস্থে, অনেক সময় নিয়ে ড্রাইভ করেন। যেন আরেকটু স্পীড বাড়ালেই গাড়িটা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পড়বে।

সঙ্গত কারণেই প্রথম দলের সাথে গাড়িতে ওঠাটা বিপ্পজনক আর দ্বিতীয় দলের সাথে ওঠাটা রীতিমত বিরক্তিকর। 

অন্ততঃ মি. কাফুকু'র (Kafuku) তাই ধারণা। ছেলে-ড্রাইভারদের মধ্যেও যে ভাল খারাপ থাকে না তা না। কিন্তু ব্যবধানটা কখনো এত প্রকট হয়ে চোখে পড়ে না হয়তো। কাফুকু সাহেব অবশ্য ব্যক্তিজীবনে মোটেই সেক্সিস্ট নন। নারী-পুরুষ সবার সাথেই কাজ করে অভ্যস্ত। বরং বেশিরভাগক্ষেত্রে মেয়েদের সাথেই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কাজের ক্ষেত্রে মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে বেশি আন্তরিক এবং যত্নবান হয়ে থাকে। 

কিন্তু, কেন যেন, মেয়ে ড্রাইভারের গাড়িতে উঠলেই তার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। সারাটা পথ কেমন একটা অস্বস্তি হতে থাকে। এই সম-অধিকারের যুগে কাউকে যে বিষয়টা একটু খোলাসা করে বলবেন তারও সাহস পান না। তাই, ওবা (Oba) যখন জানাল সে কাফুকু'র জন্যে একজন মেয়ে ড্রাইভার খুঁজে পেয়েছে, তিনি বেশ অবাক হলেন, বলা বাহুল্য কিঞ্চিত ভয়ও পেলেন। 

ওবা বুঝতে পেরে হাসি হাসি মুখ করে বললোঃ এইবার একটু ভরসা রাখেন, বস। এই মেয়ে আমার চেয়ে ভালো চালায়। আপনি অন্তত একবার কথা বলে দেখেন। ভালো না লাগলে না করে দিয়েন। আমার কোন সমস্যা নাই। 

কাফুকু কিছুটা দ্বিধার সুরে বলেঃ আচ্ছা ঠিক আছে, এত করে যখন বলছো..

আসলে একজন ড্রাইভারের খুব আর্জেন্ট দরকার। গত পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওবা'র গ্যারেজে গাড়ি ঠিক করান। এই লাইনে ওবার মত এক্সপার্ট লোক খুব একটা নাই। অতএব তার কথার উপর ভরসা করা যায়।

ওবাঃ আশাকরি কালকের মধ্যেই আপনার কাজটা শেষ হয়ে যাবে। তাও আমি সামনের চাকার এলাইনমেন্টটা আরেকবার চেক করে দেখবো। আপনি কি পরশুদিন দুইটার দিকে একটু আসতে পারবেন? তাহলে ওই মেয়েকেও এই সময়ে আসতে বলতাম। গাড়ি এর মধ্যে ঠিক হয়ে গেলে সে আপনাকে একটু আশে পাশে টেস্ট ড্রাইভ করে দেখালো... না কি?

কাফুকু মিরর-গ্লাসটা এডজাস্ট করতে করতে বলেঃ ওর বয়স কেমন হবে আন্দাজ?

ওবাঃ সেভাবেতো জিজ্ঞেস করা হয়নি। হবে হয়তো চব্বিশ-পঁচিশ। তবে ভালো ড্রাইভার এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু..

কাফুকুঃ কিন্তু কী?

ওবা একটু কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেঃ কিভাবে যে বলি... মানে একটু কম কথা বলে আর কি।

কাফুকুঃ মানে?

ওবাঃ আমি তাকে কখনো হাসতে দেখি নাই। একটু ঠোঁট-কাটা টাইপের আছে। আর দশটা মেয়ের তুলনায় একটু বেশি সাদাসিধে। আর... চেইন স্মোকার। সত্যিকথা বলতে একটু পাগল কিসিমের আছে। তবে গাড়ীটা সে ভালোই চালায়। পুরোপুরি প্রফেশনাল যাকে বলে। 

কাফুকুঃ কম কথা বলাই ভাল। তাতে আমার অসুবিধা নাই। সুন্দরী হলেই বরং ঝামেলা বাড়ত। 

ওবাঃ ওহ, তাইলে তো ঠিকই আছে। 

কাফুকুঃ এর আগে কোথায় কাজ করতো জানো কিছু?

ওবাঃ শুনেছি সুপার শপে ছিল বেশ কিছু দিন। এখন কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারির কাজ করে। আমার কাছে এসছিল একটা চাকরির জন্যে- আমারই এক বন্ধুর রেফারেন্সে। আপনি তো জানেন আমার অবস্থা। পুরনো যারা আছে তাদের বেতন দিতেই হিমশিম খাচ্ছি। নতুন লোক রাখি কি করে; মাঝে অবশ্য কিছু দিন পার্ট-টাইম করেছে এখানে। তাই বলছি - মেয়েটা বিশ্বস্ত। আর কোনও বদভ্যেস নাই - মদ টদের ব্যাপারে কোন..

কথা শেষ করতে না দিয়েই, কাফুকু বেরিয়ে যেতে যেতে বলেঃ আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে পরশু দেখা হচ্ছে। দেখো ওইদিন যেন গাড়িটা ঠিকঠাক নিয়ে যেতে পারি।




(২) 


কথামত একদিন পর কাফুকু সাহেব গাড়ি নিতে হাজির হলেন ওবা'র গ্যারেজে। মোটামুটি সব ঠিকঠাক - নতুন ব্রেক প্যাড লাগানো হয়েছে, ওয়াইপার ব্লেডগুলো চেঞ্জ করা হয়েছে, সামনের ডানদিকের ফেন্ডারটা ঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনা গেছে, ট্রান্সমিশনটাও রিএডজাস্ট করা হয়েছে। রঙ করার পর মনেই হচ্ছে না এই সাব-৯০০ কনভার্টিবলের বয়েস ১২ বছরের বেশি। ক্যানভাস রুফটা এখানে সেখানে ক্ষয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় এক আধটু পানিও পড়ে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কখনো নতুন গাড়ী কেনার প্রয়োজন বোধ করেননি কাফুকু। কেমন যেন একটা অদ্ভুত মায়ায় পড়ে গেছেন গাড়িটার।



কানভার্টিবলের এই একটা সুবিধা - যখন খুশি ছাদটা নামিয়ে চারপাশটা দেখতে দেখতে চালানো যায় - আকাশে ছুটে বেড়ানো মেঘ, দূরে ঘন সবুজ পাহাড়ের সারি, ইলেক্ট্রিকের তারে বসা পাখি - কাফুকুর এইসব ভালো লাগে।এমনকি কনকনে শীতের মধ্যেও ভারী জাম্পার আর গলায় মাফলার জড়িয়ে দিব্যি ছাদ নামিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন; গরমের দিনে সানগ্লাস আর ক্যাপ। 

কাফুকু বনেটের উপর ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দেখেন সব ঠিকঠাক আছে কিনা। যেন কোন অভিজ্ঞ অশ্বারোহী রেসের আগে তার প্রিয় ঘোড়ার গায়ে আদর করছেন। 

গাড়িটা কেনার সময় তার স্ত্রী বেঁচে ছিলেন। হলুদ রঙটা তারই পচ্ছন্দ করে দেয়া। প্রথম প্রথম দু'জন মিলে হুটহাট করে শহরের বাইরে, দূরে কোথাও চলে যেতেন। কয়েকদিন বাইরে কাটিয়ে তারপর শহরে ফিরতেন। তার স্ত্রীর ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তাই কাফুকুকেই চালাতে হত। 

অবশ্য গত বছর দশেক ধরে একাই ড্রাইভ করছেন। স্ত্রী মারা যাবার পরে, বেশ ক'জনের সাথে আলাপ হয়েছিল বটে, কিন্তু কেন যেন কারো সাথেই সে রকম ভ্রমণের সুযোগ হয়ে ওঠেনি আর। আসলে তিনি নিজেও দরকার ছাড়া খুব একটা শহরের বাইরে যান নি। 

ওবাঃ কি বুঝলেন? এখানে সেখানে কিছু আবছা দাগ আছে বটে, তবে ঠিকমত যত্ন আত্তি নিলে এখনো অনেকদিন টিকে যাবে। সুইডিশ ব্র্যান্ড বলে কথা। 

কাফুকু বিলের টাকা দিতে দিতে ড্রাইভার মেয়েটি এসে হাজির হল। দোহারা শক্ত গড়ন। ৫ ফুট ৫ এর মত হবে; প্রশস্ত কাঁধ। কাঁধের পেছনে বাঁ দিকটায় একটা গোলাপি আঁচিলের মত দাগ - জন্মদাগ হবে হয়তো। ওবার কথাই ঠিক - মেয়েটাকে প্রচলিত অর্থে আর যাই হোক ঠিক সুন্দরী বলা যায় না। কিশোরী বয়সের ব্রণের দাগ এখনো স্পষ্ট। বড় বড় চোখ দুটিতে খুব তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। ছেলেদের একটা হেরিংবোন জ্যাকেট পড়ে আছে- যদিও এখনো শীত আসতে ঢের দেরি। সাথে ব্রাউন কটন প্যান্ট, পায়ে কালো কনভার্স স্নিকার্স। জ্যাকেটের নিচে ফুলহাতা সাদা টিশার্ট; তার নিচে সুডৌল স্তন আবছা প্রতীয়মান। 

ওবা পরিচয় করিয়ে দিল। ও হল মিসাকি ওয়াতারি।

মিসাকিঃ মিসাকির কোন কানজি শব্দ নেই কিন্তু। হিরাগানাতে লেখা। আপনার যদি কোন CV এর প্রয়োজন হয়, তাহলে বলবেন পাঠিয়ে দেব। 

(কানজি = চীনা অক্ষর প্রণালী যা জাপানিরা প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করে; হিরাগানা = ফোনেটিক জাপানি অক্ষর প্রণালী- আমরা যেভাবে রোমান হরফে বাংলা লিখি) 

মিসাকির কথার টোনে ঔদ্ধত্য স্পষ্ট।

কাফুকু মাথা নেড়ে সায় দিল- না, এই মুহূর্তে CV এর প্রয়োজন নাই। তুমি তো ম্যানুয়াল গিয়ারে অভ্যস্ত, না কি?

আমি ম্যানুয়ালই প্রেফার করি - মিসাকি প্রায় শীতল কণ্ঠে জবাব দিল। 


কাফুকুঃ দেখতেই পাচ্ছো বেশ পুরনো গাড়ি; সো কোন GPS নাই।

মিসাকিঃ আমার দরকার পড়ে না। দীর্ঘদিন কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারির কাজ করেছি। মাথার ভেতরেই ম্যাপ ঢুকে গেছে।

কাফুকুঃ বেশ। তাহলে চল ছোটখাট একটা টেস্ট ড্রাইভ করা যাক। বাইরে তো দেখছি রোদ আছে আজকে, ছাদটা নামানোই থাক।

মিসাকিঃ কোথায় যেতে যান?

কাফুকুঃ সামনে Tengenji মোড় থেকে ডানদিকে গিয়ে Meijiya সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ে যাও। আমার কিছু জিনিস শপিং করার আছে। তারপর Arisugawa পার্ক পেরিয়ে, ফ্রেঞ্চ এমব্যাসি আর Gaien Nishi Dori পেরিয়ে আবার এখানে ফিরে আসতে পার।

আর কোন প্রশ্ন না করে, ওবার কাছ থেকে গাড়ির চাবিটা নিয়ে মিসাকি শীতল কণ্ঠে বললোঃ ঠিক আছে, যাওয়া যাক তাহলে।

খুব দ্রুততার সাথে গিয়ার, সাইড-ভিউ মিরর আর সিট ঠিক করে নিল। বোঝাই যাচ্ছে আগে থেকেই তৈরি হয়ে ছিল সে। জ্যাকেটের পকেট থেকে একটা সবুজ সানগ্লাস পড়ে নিয়ে কাফুকুকে ইঙ্গিতে জানালো সে প্রস্তুত।

মিসাকি গাড়ি স্টার্ট নিতে নিতে অবাক কণ্ঠে বলল- আহ! ক্যাসেট প্লেয়ার? 

কাফুকুঃ হুম, আমি ক্যাসেট পচ্ছন্দ করি; রিহার্সেলে হেল্প করে।

মিসাকিঃ অনেকদিন পর দেখলাম।

কাফুকুঃ আমি যখন ড্রাইভিং শিখি তখনতো ক্যাসেটও ছিল না; সব গাড়িতে এইট-ট্র্যাক চলতো।

মিসাকি চুপচাপ ড্রাইভ করে চলল। এইট-ট্র্যাক প্লেয়ার যে কি বস্তু এটা অবশ্য মিসাকি'র জেনারেশানের ছেলে-মেয়েদের জানার কথা না।

ওবা'র কথাই ঠিক- মেয়েটা আসলেই ভাল ড্রাইভ করে। অন্যদিনের তুলনায় রাস্তায় আজকে একটু ভিড় বেশি মনে হচ্ছে। প্রায় সব সিগন্যালেই দাঁড়াতে হচ্ছে। কিন্তু মিসাকি এত স্মুথলি গিয়ার শিফট করছে যে কোন ঝাঁকিই গায়ে লাগছে না। অনেকদিন পর প্যাসেঞ্জার সিটে বসে কাফুকু'র একটু অন্যরকম লাগে। এই সুযোগে চারপাশের শহরের রাস্তায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। প্যসেঞ্জার সিটের জানলা থেকে বাইরের জগত একটু হলেও অন্যরকম লাগে। কাফুকু অনেকক্ষণ কথা না বলে থাকতে পারে। স্মল-টকে মোটামুটি আনাড়িই বলা যায়। প্রয়োজন ছাড়া বক-বক করার চেয়ে চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ।

সিগন্যালে আটকে পড়লে মিসাকি সিগারেট ধরালো- মার্লবোরো - মনে হচ্ছে তার প্রিয় ব্র্যান্ড। অবশ্য সিগন্যাল ছেড়ে দেয়া মাত্র নিভিয়ে ফেলল। কাফুকু লক্ষ্য করে দেখল- ফেলে দেয়া ফিলটার গুলোতে লিপস্টিকের দাগ নেই। নখে নেইলপলিশ ইউস করে না; মেনিকিউর দূরে থাক। মেয়েটা মনে হয় মেকআপ পচ্ছন্দ করে না। 

শপিং শেষ করার পর Arisugawa পার্কের দিকে যেতে যেতে কাফুকু মুখ খুললোঃ যদি কিছু মনে না কর, একটা প্রশ্ন করি? 

মিসাকিঃ শিউর, গো এহেড।

কাফুকুঃ তুমি ড্রাইভিং শিখলে কোথায়?

মিসাকিঃ আমার ছোটবেলা কেটেছে পাহাড়ে। Hokkaido তে। বেশ দুর্গম জায়গা বলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট প্রায় ছিল না বললেই চলে। তাই এলাকার সবাই নিজেরা ড্রাইভ করত। আমিও ছোটবেলাতেই গাড়ি চালানো শিখেছি। 

কাফুকুঃ কিন্তু একটু আগে তুমি যে শপিং মলে প্যারালাল পার্কিং করলে, ওটা কোথায় শিখলে? পাহাড়ি রাস্তায় নিশ্চয় প্যারালাল পার্কিং করা যেত না? 

মিসাকি একমনে গাড়ি চালাচ্ছে। উত্তর দেবার প্রয়োজন বোধ করল না। 

কাফুকুঃ ওবা কি তোমাকে কিছু বলেছে - কেন আমার হঠাত ড্রাইভারের দরকার পড়ল?

সামনের ট্র্যাফিকের উপর চোখ রেখে প্রায় মুখস্থের মত মিসাকি উত্তর দিলঃ আপনি একজন মঞ্চ অভিনেতা। সপ্তাহের প্রায় ছয়দিনই শো থাকে। সবসময় নিজেই ড্রাইভ করতেন। ট্যাক্সি বা সাবওয়ে পচ্ছন্দ করেন না। কারণ গাড়িতে যেতে যেতে আপনি স্ক্রিপ্ট রিহার্স করেন। গত সপ্তাহে ড্রাঙ্ক অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় ছোটখাট একটা এক্সিডেন্ট হয়। তাছাড়া চোখেরও কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে রিসেন্টলি। 

কাফুকু মাথা নেড়ে সায় দিলঃ এলকোহলের মাত্রা অত বেশি ছিল না। তাই কোনমতে ধামাচাপা দেয়া গেছে। কিন্তু অন্যান্য টেস্ট করার সময় ডান চোখের কোনায় একটা ব্লাইন্ড স্পট ধরা পড়েছে। মনে হচ্ছে গ্লুকোমা। তাই থিয়েটার থেকে বলল আর নিজে ড্রাইভ করা যাবে না; এখন থেকে ড্রাইভার রাখতে হবে। 

"মি. কাফুকু?" - মিসাকি জিজ্ঞেস করল - "আমি কি আপনাকে এই নামেই ডাকব? নাকি এটা আপনার স্টেজ-নেম? 

কাফুকু মৃদু হেসে জানালঃ আমি জানি নামটা একটু অদ্ভুত শোনায়, কিন্তু এটাই আমার আসল নাম। এর কানজি অর্থ হল - "লক্ষ্মীর বর"। যদিও এখন পর্যন্ত নামের কোন সুবিচার পাই নি। আমাদের বংশে কেউ কোনদিন বিশেষ পয়সা-কড়ি করতে পারে নি। 

কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কাফুকু ড্রাইভারের বেতন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলল। থিয়েটারে কাজ করে যে টাকা পায়, তাতে এর চেয়ে বেশি বেতন দেয়া ওর পক্ষে সম্ভব না। ওর লাইনে কারুরই নিজেদের ড্রাইভার নেই। নেহাত বিপদে পড়ে রাখতে হচ্ছে। 

কাফুকুঃ আমার কাজের কোন ঠিক ঠিকানা নাই। রাত-বিরাতে রিহারসেল, শ্যুটিং, শো। তবে সাধারণত সকালের দিকটাই প্রেসার কম থাকে। তাই তুমি একটু দেরি করেই আসতে পার। আমি চেষ্টা করব রাত এগারোটার আগে তোমাকে ছেড়ে দিতে। এর চেয়ে দেরি হলে আমি ট্যাক্সি নিয়ে নেব। আর সপ্তাহে একদিন মাত্র ছুটি। 

মিসাকিঃ আমার কোন সমস্যা নেই। 

কাফুকুঃ বুঝতেই পারছ কাজটা অত কঠিন কিছু না। সবচেয়ে কষ্টকর হবে হয়তো গাড়িতে বসে অপেক্ষা করাটা। 

মিসাকি চুপচাপ ড্রাইভ করে চলল। 

কাফুকুঃ ছাদ নামানো অবস্থায় স্মোক করলে আমার প্রবলেম হবে না। কিন্তু প্লিজ, ছাদ তোলা অবস্থায় কর না। 

মিসাকিঃ ওকে। 

কাফুকুঃ তোমার দিক থেকে কি কিছু বলার আছে?

মিসাকিঃ আ...নাহ। গাড়িটা আমার পছন্দ হয়েছে। 

বাকিটা পথ কেউ আর কোন কথা বলল না। গ্যারেজে ফিরে কাফুকু ওবাকে ডেকে জানাল তার ড্রাইভার পছন্দ হয়েছে। 



(৩) 


পরের দিন থেকেই মিসাকির নতুন চাকরি শুরু হল- দুপুরের দিকে কাফুকুর Ebisu এপার্টমেন্টের গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে কাফুকুকে Ginza এর থিয়েটারে নামিয়ে দেয়া, অন্য কোথাও শ্যুটিং থাকলে সেখানে নিয়ে যাওয়া; সপ্তাহে একদিন আবার কাফুকু একটা ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে যান - সেখানে নিয়ে যাওয়া, তারপর দিনশেষে আবার বাসায় পৌঁছে দেয়া। 

অধিকাংশ সময় কনভারটিবলের ছাদ নামানোই থাকে। যেতে যেতে ক্যাসেট ছেড়ে দিয়ে কাফুকু নাটকের সংলাপ মুখস্থ করেন। নাটকের নাম - Uncle Vanya। চেখভের নাটক। মূল চরিত্রটা কাফুকু ই করছেন। যদিও সব লাইন তার মুখস্থ, তারপরও শো'র আগে নার্ভাসনেস কাটানোর জন্যে গাড়িতে বসে সংলাপ আওড়ানোটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর না হলে হাই-ভলিউমে বিটোফেনের স্ট্রিং-কোয়ার্টেট শোনা। এতে নাকি কনসেনট্রেট করতে সুবিধা হয়।





একটু হালকা মেজাজে থাকলে, মাঝে মাঝে পুরনো দিনের আমেরিকান রকও শোনা হয়- Beach Boys, the Rascals, CCR, the Tempteation প্রভৃতি। বোঝাই যায় তরুণ বয়সে ভালোই ফ্যান ছিলেন। 

গাড়ি চালানোর সময় মিসাকি পারতপক্ষে কথা বলে না। একটা ভাবলেশহীন মুখ নিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকে। এতে অবশ্য কাফুকুর সুবিধাই হয়েছে। আগে অন্য লোকজনের সামনে নাটকের সংলাপ মুখস্ত করতে কিছুটা হলেও অস্বস্তি হত। কিন্তু মিসাকি এতই চুপচাপ থাকে, এখন সেই সংকোচ কেটে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় সে বুঝি কিছুই শুনছে না। গাড়ি চালাতে চালাতে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছে। একটু গরম পড়লে মিসাকি হেরিংবোন জ্যাকেট ছেড়ে একটা সামার-জ্যাকেট পড়া শুরু করল। জ্যাকেটটাকে সে এক প্রকার ইউনিফর্ম বানিয়ে ফেলেছে বলা যায়। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সমসময় একই পোশাক তার। 

নাটকের শো শেষ হলেই মেক-আপ খুলে কাফুকু ফোন করে গাড়ি বের করতে বলেন। অন্যান্য সহ-অভিনেতা, অভিনেত্রীরা নাটক শেষে আড্ডা-টাড্ডা দেয়। কাফুকু এর মধ্যে নাই। ইনফেক্ট প্রফেশনাল সম্পর্কের বাইরে কারুর সাথেই তেমন বন্ধুত্বও হয়নি তার। শো ঠিক সময়ে শেষ হলে, সাধারণত রাত সাড়ে দশটার মধ্যেই বাসায় পৌঁছে যান। 

মাঝখানে একটা টিভি-শোতে কাজ করেছিলেন- চরিত্রটা ছিল একজন জ্যোতিষীর। নিজেকে তৈরি করতে কিছুদিন রাস্তায় ছদ্মবেশ নিয়ে লোকজনের হাত দেখে বেরিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন পরে এসে হাসিমুখে ধন্যবাদও দিয়ে গেছে, বলেছে - তার ভবিষ্যৎ বানী নাকি সত্যি হয়েছে! রাতে ক্লাস থাকলে অবশ্য ফিরতে একটু দেরি হয়ে যায়। যদিও নতুন জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের সাথে সময় কাটাতে তার ভালই লাগে। আর এই সমস্ত পর্যটনে মিসাকি তার নির্বাক সারথি। তিনিও ক্রমে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে ইদানীং প্রায় প্যাসেঞ্জার সিটে নাক ডেকে ঘুমিয়েও পড়েন। 

যেহেতু এখন আর নিজে ড্রাইভ করেন না, গাড়িতে অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে হয়। মিসাকিও খুব একটা আলাপে না। বাইয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রাজ্যের ভাবনা ভিড় করে মাথায়। সম্প্রতি মৃত স্ত্রীর কথা খুব মনে পড়ে। কাফুকু'র স্ত্রীও সু-অভিনেত্রী ছিলেন। তার চেয়ে দু'বছরের ছোট। অভিনয়ের সূত্রেই তাদের প্রথম আলাপ। সিনেমা পাড়ায় ডাকসাইটে সুন্দরী হিসেবে বেশ সুনাম ছিল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কাফুকু লিড রোলগুলো কখনো পেতেন না। এটা হয়তোবা তার সাদামাটা গড়নের কারণে। তার উপর অল্প বয়সেই মাথায় টাক পড়ে যায়। কিন্তু অধিকাংশ নায়িকা-চরিত্র গুলো তার স্ত্রীর জন্যেই বাঁধা থাকত। স্বভাবতই তার জনপ্রিয়তাও ছিল বেশি। বয়সের সাথে সাথে অবশ্য অভিনেতা হিসেবে কাফুকুর সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। অনেক জটিল চরিত্র মঞ্চস্থ করে তার বেশ নাম ডাক হয়। উল্টোদিকে তার স্ত্রী নায়িকা চরিত্র থেকে বাদ পড়ার পর হঠাত করেই যেন জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। কিন্তু নিজেদের ক্যারিয়ারের এই উত্থান-পতন কখনো তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি।

কাফুকু স্ত্রীকে ভীষণ ভালবাসতেন। বলা যায় প্রথম দেখাতেই গভীর প্রেম! তার বয়স তখন ২৯। স্ত্রী মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত (কাফুকুর বয়স তখন ৪৯) এই প্রেমে কোন প্রকার ভাটা পড়ে নি। কুড়ি বছরের বিবাহিত জীবনে অনেকবার সুযোগ থাকা স্বত্বেও কখনোই অন্য নারীতে আসক্ত হন নি। যদিও কাফুকু জানতেন তার স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অন্য পুরুষের সাথে রাত কাটিয়েছেন। তার আন্দাজ অনুযায়ী এরকম হয়তো চারজন পুরুষ ছিলেন। তার স্ত্রী অবশ্য কখনোই তাকে ঘুণাক্ষরে বুঝতে দেননি। কিন্তু কাফুকু'র একটা সিক্সথ সেন্স কাজ করত এইসব ব্যাপারে। স্ত্রীকে এতই ভালবাসতেন যে কথা বলার ধরন, হাসি-ঠাট্টা, ছোটখাট খুনসুটি থেকেই বুঝতে পারতেন তার মনের কথা। সেই চারজনই ছিল বিভিন্ন সিনেমায় তার স্ত্রীর জুনিয়র সহ-অভিনেতা। প্রায় সবকটা সম্পর্কই বড়জোড় মাস খানেক টিকত - হয়তো যতদিন সিনেমার শ্যুটিং চলত ততদিন। তারপর আবার সব ঠিকঠাক আগের মত। 


শুরু থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রেম-ভালবাসার কোন ঘাটতি ছিল না। অবসরে দু'জন মিলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মত চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন- হেন কোন বিষয় নেই যা নিয়ে তাদের আলাপ হত না। শরীর, মন- সব বিচারেই তারা পরিপূর্ণ সুখী ছিলেন। পরিচিত মহলে সবাই তাদের পারফেক্ট কাপল হিসেবেই জানত। তাই কাফুকু কখনোই ঠিক বুঝে উঠতে পারেন নি - তার স্ত্রী কেন অন্য পুরুষের সাথে রাত কাটানোর প্রয়োজন বোধ করেছিলেন। 

"তুমি ওদের মধ্যে কী খুঁজতে গিয়েছিলে যা আমার মধ্যে নেই?" - এই প্রশ্ন অনেকবার জিজ্ঞেস করব করব করেও আর করা হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে অনুশোচনাও করেছেন পরে। স্ত্রী তখন প্রায় মৃত্যু শয্যায়। জরায়ুর ক্যান্সার ধরা পড়েছে প্রায় লাস্ট স্টেজে। মৃত্যুপথ যাত্রী প্রিয় মানুষকে এই প্রশ্ন করে আর বিব্রত করতে চান নি। 

কিন্তু, বিভিন্ন সময়ে চোখ বন্ধ করতেই যখন তার স্ত্রীর মুখ ভেসে উঠত সামনে, সাথে আলিঙ্গনরত সেইসব পুরুষ - তখন ভীষণ কষ্ট হত। নিজেকে বোঝানোর মত কোন অজুহাতই খুঁজে পেতেন না। যতই চাইতেন ভুলে যেতে, ততই সেইসব দৃশ্য বার বার দুঃস্বপ্নের মত ফিরে ফিরে আসত। মাঝে মাঝে মনে হত না জানলেই বোধহয় ভাল হত। জানার মধ্যেই বুঝি সব বেদনার ভার লুকিয়ে আছে। 

সবচে' অস্বস্তিকর ছিল সব জেনে-শুনেও না জানার ভান করাটা। কাফুকু যতই দক্ষ অভিনেতা হন না কেন, নিজের বাসায় প্রিয় মানুষের সাথে এই অভিনয় নিদারুণ পীড়াদায়ক ছিল। হৃদয়ের ক্ষত লুকিয়ে রেখে দিনের পর দিন সংসারের দ্বায়িত্ব পালন করে গেছেন, হাসি ঠাট্টা করেছেন, চুমু খেয়েছেন, আদর করেছেন। কখনোই স্ত্রীর মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে দেন নি। 

স্ত্রী মারা যাবার পর বিভিন্ন সময়ে, বেশ ক'জন মহিলার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়েছে; কারো কারো সাথে রাতও কাটিয়েছেন। কিন্তু কখনোই সেই আগের মত শরীর ও মনের চিরতৃপ্তি খুঁজে পান নি। (চলবে) 



৩১/১০/২০১৭
-- 
দোহাইঃ 
টেড গুসেন যিনি জাপানিজ থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। 






  





  

  


     



  





   













  



  

















Please darling, be strong



Singing is magical when it comes from your heart. When properly done, a rather simple composition or lyric may appear to be such extraordinary that makes every single person in the audience vulnerable to it.

One may also wonder how a religiously fundamentalist country like Pakistan can give birth to such strong female voice. Based in Islamabad, Maria Fatima Unera wrote this song- 'Strong' after her mother had passed away battling cancer. 

I happened to be listening to this song - almost in a loop - for the last couple of weeks. There is a part where she screamed her pain out- 'Oh Lord, please can you hear me? Can you hear me now?! Please help my mama, be strong.' Every time I come to this part, I find it difficult to hold back tears.     

--


আবার দেখা যদি হল সখা, প্রাণের মাঝে আয়



"হই-চই টিভি"-র সুবাদে Hello দেখা হল। আসলে দেখতে বসেছিলাম দুপুর ঠাকুরপো। কিন্তু এমন বাজে স্ক্রিপ্ট যে তিন-চার এপিসোডের পরেই আগ্রহ হারালাম। বাজেটের বড় অংশ মনে হয় স্বস্তিকা মুখার্জীর জন্যে বরাদ্দ ছিল। তাই মাঝারি মানের স্ক্রিপ্ট রাইটার দিয়ে কোন মতে কাজ চালাতে হয়েছে। 

Hello এর স্ক্রিপ্ট যে খুব আহামরি তা বলবো না। কিন্তু গল্পটা বেশ জমিয়েছে বলতে হবে। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় এমন সাহসী লেসবিয়ান প্রেমের গল্প আগে কখনো দেখিনি। শেষ্ঠাংশে- রাইমা সেন এবং প্রিয়াঙ্কা সরকার। 

শুরুটা অবশ্য আর দশটা কলকাতার ছবির মতই। ইনফ্যাক্ট কলকাতার একটা গৎবাঁধা গল্প দাঁড় করাতে যা যা লাগে তার সবটাই এতে আছে- দুর্গা পূজা, বনেদি হিন্দু বাড়ি, পূজার ছুটিতে সবার বেড়াতে আসা, ঢাকের আওয়াজ, ষষ্ঠী পূজা, উৎসব, সিঁড়ি ঘরে চুমু খাওয়া, বৌদি-ননদ খুনসুটি,  খিটখিটে মেজাজের শাশুড়ি, ছোটদের বায়না, বউদের সিঁদুর খেলা এবং অতি অবশ্যই পরকীয়া প্রেম। একটা সময় কলকাতায় আর্ট ফিল্মের নাম করে শুধু পরকীয়া গল্পের নাটক/সিনেমা বানানো হত। এমনকি সত্যজিত রায়ও বুড়ো বয়সে এই পথে হেঁটেছেন। তারপর ঋতুপর্ণ ঘোষ তো আছেনই। না, আমি বলছি না- পরকীয়া গল্প খারাপ। কিন্তু সব ছবি একই ধরনের হয়ে গেলে কিছুটা হলেও বিরক্তি আসে। তার উপর বিষয়টা ট্যাবু বলে সাধারন দর্শকের বাড়তি এটেনশন পাওয়া যায়। বিনা খরচায় ভালো মার্কেটিং, পাবলিসিটি হয়ে যায়। যেমন- YouTube এ সত্যজিৎ রায়ের এত ভালো ভালো ছবি থাকার পরেও, পিকুর ভিউ সবথেকে বেশি।  

তো শুরুর কয়েক এপিসোড দেখে ভাবলাম সেরকম কিছু একটাই হতে চলেছে- ইয়েট এনাদার পরকীয়া লাভ স্টোরি। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই যখন গল্পটা আন্দাজ করতে পারলাম তখন নড়ে চড়ে বসতে হল। পরিচালকের অবশ্য কিছুটা 'শ্রীজিত সিন্ড্রোম' আছে- সবকিছুর মধ্যে সাসপেন্স ঢুকিয়ে দেয়ার ব্যারাম। সাদামাটা প্রেমের গল্প বলবে; তার মধ্যেও অযথা টুইস্ট, সাসপেন্স- যেন গোয়েন্দা গল্প! সাধারনত গল্প বলায় কনফিডেন্সের অভাব হলে, ডিরেক্টর এসব সস্তা ছল-চাতুরীর আশ্রয় নেয়, যাতে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত দর্শককে আটকে রাখা যায়।  

Hello এর গল্প নন্দিতাকে (রাইমা সেন) নিয়ে। নন্দিতা বনেদি চৌধুরী বাড়ির বড় বউ। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। বড় বউ বলে পুরো সংসারের দায়িত্ব তার কাঁধে। পূজার সময় হওয়ায় ব্যস্ততা যেন আরো বেশি। আমেরিকা থেকে দেবর, জা ও তাদের বাচ্চাকাচ্চা এসেছে। ননদ ও তার স্বামী এসেছে। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন ও নানান লোকজন। একদিকে পূজার আয়োজন, রান্না বান্না আরেক দিকে মেহমানদারি, - সব মিলিয়ে হিমশিম খাবার অবস্থা। এদিকে ষষ্ঠীর দিনেও স্বামীর দেখা নেই। অফিসের কাজের চাপে তিনি কয়েকরাত বাড়ি ফিরেন নি।  

মূল ঘটনার সূত্রপাত হল যখন অপরিচিত নাম্বার থেকে নন্দিতার মোবাইলে একটা ভিডিও মেসেজ আসে। ভিডিওতে দেখা যায় তার স্বামী একজন সুন্দরী যুবতীর সঙ্গে বিছানায় প্রেম করছেন। নন্দিতা যথারীতি শকড হলো- যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। পূজার ভিড় বাট্টার মধ্যে কাউকে কিছু বলতেও পারছে না। স্বামী বাড়ী ফেরার পর তাকে জিজ্ঞেস করা হল। পিঠে লিপস্টিকের দাগ দেখে নিশ্চিত হল যে ভিডিওর কোন কিছুই এক বর্ণ মিথ্যে নয়। বাড়ি ভর্তি লোকজন থাকায় নিচু স্বরে কথা কাটাকাটি হল। কিন্তু মেসেজটি কে পাঠাল এ ব্যাপারে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।


নন্দিতা নিরুপায় হয়ে তার জা'কে সব খুলে বললো। মোবাইল কোম্পানিতে চাকুরীরত জা'র এক বন্ধুর সাহায্যে জানা গেল সেই নাম্বারের হদিস। ভদ্রলোকের নাম- দেবল সোম। কিন্তু তিনি কিভাবে এই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ভিডিও করলেন, কেনই বা তাকে পাঠালেন তার কিছুই জানা গেল না। এদিকে স্বামী আর কোন অজুহাত না পেয়ে নন্দিতাকে দোষারোপ করলেন যে নন্দিতা তার পিছনে স্বপ্রনোদিত হয়ে গোয়েন্দা লাগিয়েছে। এবং সেই লোকই দেবল সোম যার সাথে নন্দিতার বিয়ের আগে থেকে জানা শোনা ছিল। 

পূজার ঢামাডোলের মধ্যেও এই অশান্তি আর চাপা থাকলো না। আস্তে আস্তে সবার পাঁচকান হলো। ননদ, শাশুড়ি, দেবর কারুরই অগোচর রইলো না যে বাড়ির গৃহকর্তী ও কর্তার মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। শাশুড়ি ভীষণ অসন্তুষ্ট।বড় ছেলে মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেল। গিয়ে উঠলো তার প্রেমিকার বাসায়। প্রেমিকার নাম - নীনা (প্রিয়াঙ্কা সরকার)। 

ইতিমধ্যে নন্দিতার মোবাইলে আরো ভিডিও আসতে থাকে। কিছু ভিডিও দেখে মনে হয় যেন সেখানে কোন মেসেজ আছে। নীনার পিঠে ট্যাটু, কুশন কাভারের এম্ব্রয়ডারি ইত্যাদি দেখে মনে হয় যেন কিছু একটা বলতে চাইছে সে এই ভিডিওর মাধ্যমে। এ পর্যায়ে মনে হতে থাকে নীনার সাথে বুঝি নন্দিতার কোন পূর্ব শত্রুতা ছিল এবং সে এটার প্রতিশোধ নিচ্ছে। নীনার বিভিন্ন আলাপ চারিতায় নন্দিতার প্রসঙ্গ আসে। নন্দিতার রূপে গুনে সে একপ্রকার মুগ্ধ। তবু সে চায় নন্দিতার স্বামী যেন তাকে ডিভোর্স দেয়। 

দশমীর দিন আবার টেক্সট আসে নন্দিতার মোবাইলে। এবার প্রেরক তার সাথে দেখা করতে চায়- শহরের এক পরিচিত পাবে (Pub)। দেবী বিসর্জনের সময় সবাই যখন প্রতিমা নিয়ে মিছিল করে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে তখন পিরিয়ড আর পেট ব্যাথার অজুহাত দেখিয়ে নন্দিতা সটকে পড়ে। লোকজন ভর্তি পাবে গিয়ে দেখে শাখা সিঁদুর আর লাল পাড়ের সাদা শাড়ী পড়ে ভিডিওর সেই মেয়েটি পটের রানী সেজে বসে আছে। 

পরবর্তিতে সংসারের অশান্তি আরো চরমে উঠলে, নন্দিতা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তার স্বামীও তাকে মৌখিকভাবে ডিভোর্সের কথা জানিয়ে দেয়। অসহায়ের মত দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অন্যদিক থেকে আসা একটা গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এমন সময় ঘটনাস্থলে ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হয় নীনা। নন্দিতাকে কোলে তুলে নিজের বাসায় নিয়ে এসে সেবা শুশ্রূষা করে। 

নন্দিতার জ্ঞান ফিরে এলে, নীনা নিজের পরিচয় দেয়। সে আসলে নন্দিতার স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড দেবলীনা। বাবার ট্রান্সফারের কারণে দুজনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিল। তাই অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু দেবলীনা নন্দিতাকে ভুলতে পারে নি; তাই ছোটবেলায় দেয়া কথা রাখতে সে আবার ফিরে এসেছে। নন্দিতার স্বামীর সাথে মিথ্যে প্রেমের অভিনয় করে তাকে বাড়ি থেকে মুক্ত করে এনেছে। অতঃপর মধুরেণ সমাপয়েৎ এবং নেপথ্যে রবীন্দ্রনাথের গানঃ 

'মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়
বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়।
হায় মাঝে হল ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায়
আবার দেখা যদি হল, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।' 



অফটপিকঃ 
রবীন্দ্রনাথ যেন কিভাবে কিভাবে সব কিছুতেই খাপ খাইয়ে যায়। এই যেমন শেষের দিকে এই গানটা শোনার সময় কেবল মনে হতে থাকে এর চেয়ে সুন্দর লেসবিয়ান প্রেমের গান আরেকটি হতে পারে না!

-- 

      
   

না সুজাতা না প্রেমিকা

না সুজাতা, না প্রেমিকা



এমনও তো হয় কোন কোনদিন

একা বিহ্বল বসে থাকা

অপেক্ষার ছায়া মাড়িয়ে অন্ধকার

তোমার তনিমার কাছে শান্ত খোলা দুপুর।


একটা সঠিক সোমবার 

কখনোই এলো না আর।

কী একটা ছুটির দিন 

শরীরে ময়ূর নেই

চারিদিক এত ভেজা

নিঃস্তব্ধ।   

সবাই তবু চুপচাপ

এত না-বলা কথা



যেন একটু পরেই জারুল

--

জয় ও ব্রততী

Listening to them has always been a divine pleasure:


উলেখযোগ্য কবিতা গুলো যথাক্রমে-

হ্যাঁ আমি দোষ করেছি বউঠান
দু'দশ খানা কবিতা অপরাধ
ঝড়ে উড়িয়ে দেইনি, বউঠান
আমার যত কবিতা-অপরাধ
তোমার কাছে যা কিছু প্রশ্রয়
সবই আমার কবিতা-অপরাধ
আমাকে ভুল বোঝ না বউঠান
ফিরিয়ে নেব তর্ক, প্রতিবাদ
আমার কথা ভাবোনি বউঠান
ছাদের ঘরে ভেঙে পড়ল চাঁদ
সেদিন থেকে জীবন খান খান
ছাদের ঘরে ঝুলছে কালো চাঁদ।

-- 


অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে

করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো
লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে
যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো

করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি
ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে;
–’পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে

কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে।

--


বেনীমাধব বেনীমাধব তোমার বাড়ী যাব
বেনীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাব?
বেনীমাধব মোহনবাঁশিঁ তমাল তরুমূলে
বাজিয়েছিলে আমি তখন মালতি স্কুলে।
ডেস্কে বসে অঙ্ক করি ছোট ক্লাশ ঘর
বাইরে দিদিমনির পাশে দিদিমনির বর।
আমি তখন নবম শ্রেণী আমি তখন শাড়ী
আলাপ হলো বেনীমাধব সুলেখাদের বাড়ী।


বেনীমাধব বেনীমাধব লেখাপড়ায় ভাল
শহর থেকে বেড়াতে এলে আমার রং কালো।
তোমায় দেখে একদৌড়ে পালিয়ে গেলাম ঘরে
বেনীমাধব আমার বাবা দোকানে কাজ করে।
কুঞ্জে অলি গুঞ্জে তবু ফুটেছে মঞ্জুরী
সন্ধে বেলা পড়তে বসে অংকে ভুল করি।
আমি তখন নবম শ্রেণী আমি তখন ষোল
ব্রীজের ধারে বেনীমাধব লুকিয়ে দেখা হলো।
বেনীমাধব বেনীমাধব এতদিন পরে
সত্যি বল সেসব কথা এখনও মনে পড়ে?

সে সব কথা বলেছ তুমি তোমার প্রেমিকাকে?
আমি শুধু একটি দিন তোমার পাশে তাকে
দেখেছিলাম আলোর নীচে অপূর্ব সে আলো
স্বীকার করি দুজনকেই মানিয়ে ছিল ভালো।
জুড়িয়ে দিল চোখ আমার পুড়িয়ে দিল চোখ
বাড়ীতে এসে বলেছিলাম ওদের ভাল হোক।

রাতে এখন ঘুমাতে যাই একতলা ঘরে
মেঝের উপর বিছানাপাতা জোসনা এসে পড়ে।
আমার পরে যে বোন ছিল চোরা পথের বাঁকে
মিলিয়ে গেছে জানিনা আজ কার সাথে থাকে।
আজ জুটেছে কাল কী হবে কালের ঘরে পানি
আমি এখন এপাড়ার সেলাই দিদিমনি।
তবুও আগুন বেনীমাধব আগুন জ্বলে কই;
কেমন হবে আমিও যদি নষ্ট মেয়ে হই?

--

আমি যখন ছোট ছিলাম
খেলতে যেতাম মেঘের দলে
একদিন এক মেঘবালিকা
প্রশ্ন করলো কৌতুহলে
“এই ছেলেটা, 
 নাম কি রে তোর?”
আমি বললাম,
                          “ফুসমন্তর !”
মেঘবালিকা রেগেই আগুন,
“মিথ্যে কথা । নাম কি অমন
হয় কখনো ?”
 আমি বললাম,
“নিশ্চয়ই হয় । আগে আমার
গল্প শোনো ।”
সে বলল, “শুনবো না যা-
সেই তো রাণী, সেই তো রাজা
সেই তো একই ঢাল তলোয়ার
সেই তো একই রাজার কুমার
পক্ষিরাজে
শুনবো না আর ।
             ওসব বাজে ।”
আমি বললাম, “তোমার জন্য
নতুন ক’রে লিখব তবে ।”
সে বলল, “সত্যি লিখবি ?
বেশ তাহলে
মস্ত করে লিখতে হবে।
মনে থাকবে ?
লিখেই কিন্তু আমায় দিবি ।”
আমি বললাম, “তোমার জন্য
লিখতে পারি এক পৃথিবী ।”
লিখতে লিখতে লেখা যখন
সবে মাত্র দু-চার পাতা
হঠাৎ তখন ভুত চাপল
আমার মাথায়-
খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলাম
ছোটবেলার মেঘের মাঠে
গিয়েই দেখি, চেনা মুখ তো
একটিও নেই এ-তল্লাটে
একজনকে মনে হল
ওরই মধ্যে অন্যরকম
এগিয়ে গিয়ে বলি তাকেই !
“তুমি কি সেই ? মেঘবালিকা
তুমি কি সেই ?”
সে বলেছে, “মনে তো নেই
আমার ওসব মনে তো নেই ।”
আমি বললাম, “তুমি আমায়
লেখার কথা বলেছিলে-”
সে বলল, “সঙ্গে আছে ?
ভাসিয়ে দাও গাঁয়ের ঝিলে !
আর হ্যাঁ, শোন-এখন আমি
মেঘ নই আর, সবাই এখন
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায় ।”
বলেই হঠাৎ এক পশলায়-
চুল থেকে নখ- আমায় পুরো
ভিজিয়ে দিয়ে-
 অন্য অন্য
বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
মিলিয়ে গেল খরস্রোতায়
মিলিয়ে গেল দূরে কোথায়
দূরে দূরে…।
“বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়-”
আপন মনে বলতে বলতে
আমিই কেবল বসে রইলাম
ভিজে একশা কাপড়জামায়
গাছের তলায়
বসে রইলাম
বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য
এমন সময়
অন্য একটি বৃষ্টি আমায়
চিনতে পেরে বলল, “তাতে
মন খারাপের কি হয়েছে !
যাও ফিরে যাও-লেখ আবার ।
এখন পুরো বর্ষা চলছে
তাই আমরা সবাই এখন
নানান দেশে ভীষণ ব্যস্ত
তুমিও যাও, মন দাও গে
তোমার কাজে-
বর্ষা থেকে ফিরে আমরা
নিজেই যাব তোমার কাছে ।”
এক পৃথিবী লিখবো আমি
এক পৃথিবী লিখবো বলে
ঘর ছেড়ে সেই বেড়িয়ে গেলাম
ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাঁধলাম
গহন বনে
সঙ্গী শুধু কাগজ কলম
একাই থাকব । একাই দুটো
ফুটিয়ে খাব—
.                    দু এক মুঠো
ধুলো বালি-যখন যারা
আসবে মনে
.                   তাদের লিখব
লিখেই যাব !
এক পৃথিবীর একশোরকম
স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যে-রূপকথার—
সে রূপকথা আমার একার ।
ঘাড় গুঁজে দিন
.                       লিখতে লিখতে
ঘাড় গুঁজে রাত
                    লিখতে লিখতে
মুছেছে দিন—মুছেছে রাত
যখন আমার লেখবার হাত
অসাড় হল,
                    মনে পড়ল
সাল কি তারিখ, বছর কি মাস
সেসব হিসেব
আর ধরিনি
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
এক পৃথিবী লিখব বলে
একটা খাতাও
                       শেষ করিনি ।
সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে
বৃষ্টি এল খাতার উপর
আজীবনের লেখার উপর
বৃষ্টি এল এই অরণ্যে
বাইরে তখন গাছের নিচে
নাচছে ময়ূর আনন্দিত
এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
বলছে পাখি, “এই অরণ্যে
কবির জন্যে আমরা থাকি ।”
বলছে ওরা, “কবির জন্য
আমরা কোথাও আমরা কোথাও
আমরা কোথাও হার মানিনি—”
কবি তখন কুটির থেকে
তাকিয়ে আছে অনেক দূরে
বনের পরে, মাঠের পরে
নদীর পরে
সেই যেখানে সারাজীবন
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে,
সেই যেখানে কেউ যায়নি
কেউ যায় না কোনদিনই—
আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
সেই দেশে সেই ঝরনাতলায়
এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়
সোনায় মোড়া মেঘহরিণী—
কিশোর বেলার সেই হরিণী ।
--