ক্যান্টিনে

ক্যান্টিনে


স্হবিরতম ভোরগুলি সাধারনত আমার ক্যান্টিনে কাটে।
অর্ডার দেওয়া খাবারের অপেক্ষায় থেকে থেকে।
এইসময়ে ঘাড় উঁচিয়ে আমি সিলিংটাকে দেখি।
দেখি তার থেকে খানিকটা নিচে একটা ফ্যান
কেমন সুবাস্তু ঝুলে থাকে।
আমি আপাদমস্তক গ্লাসে মুড়ে দেওয়া দেয়ালটাকে দেখি।
দেখি আয়ানাঘরের প্রকরণ ভেঙে
একটা দুর্বৃত্ত নেমে আসে যেন।
এইসব ভোর এবং প্রতিসরী স্কয়ারের ভিড়ে
তাকে হারিয়ে ফেলি পলকে।
মাশরুমের দীর্ঘ গুনাবলি পড়ে পড়ে
অলস ঘুম নেমে এলে
চেয়ে দেখি বাইরের কুয়াশা মেদুর।

অত:পর আমি এবং সেচ্ছাসেবক তিনটা চেয়ার
প্রথাগত একটা সৌজন্যবোধ আঁকি বসে।
---------------------------------------

ঊন মূক

ঊন মূক


কার্নিশ থেকে সুতোটা ঝুলেছিলো।
এবং তার পাশেই কি একটা অপ্রাসঙ্গিক মত!
আমি চেয়ে দেখি ফ্লোর থেকে কিছু অনুযায়ী আর্থ্রোপ্রোড।
মৃদু উঠে আসে যেন।
বেনামে জমা হয় আমার একস্টিকের ফ্রেডে,
উল্টো-পিঠ এ্যাসট্রের বুকে।
বিশেষ করে বুকের বাঁ দিকটাতে।

আমার মনে পড়ে কোন এক ডোমিনিয়ান শহর।
শহরের বিবিধ হরতাল
এবং অ্যালুমিনিয়াম রমনীরা।
তিন-তিনটে যমজ লকারের কোণ ঘেঁষে
এরকম ভাবনাগুলো আমার
চলে গেছে খুব মসৃণ।
প্রার্থনা করি একজন মীন জাতিকার
যোনিপথে ওরা লেপ্টে যাক।
লেপ্টে যাক পূর্বাপর যত থিতু শহর
এবং তৎজনিত মৃত অবসাদ!
তখনো কার্নিশ থেকে ঝুলেছিলো সুতোটা
এবং তার পাশেই কি একটা অপ্রাসঙ্গিক মত!
-------------------------------------------

ড্রয়ার

ড্রয়ার

মুখ ড্রয়ারের কোণ ঘেঁষে আমি অবারিত হই।
অন্ধকারের তৈজস খুলে দেখি আমার বিস্তারিত গোপন।
এবং প্রয়াত: বিষয়াদি।
ছুটিদিবসের ওরা প্রায় আঁটোসাঁটো হয়ে বসে।
ঠিক যেখানটাই ধূলোজমা কুয়ো আর আনুপাতিক চারপাশ।
হয়তো ইতিহাস হওয়ার আশঙ্কায় এখনো প্রবল।
আমি তাই নির্মেঘ হই পরে।

একটা বিষন্নতা মোলায়েম নেমে আসে তখন।
উড়ে উড়ে কী এক প্রাক্তন স্মৃতিময়তায়
ছক কেটে আঁকে আমারই মতো মিথোজীবী সব।
কিছু একান্ত অপরাণ্হে এমনি মৃতপ্রায় পড়ে থাকি আমি।
যেন আশ্চর্য সব ফসিলে এক রোদ ভাঙা সমর্পণ।

---------------------------------------------------

বায়বীয় অনুষদ

বায়বীয় অনুষদ


একটা মেঘ প্রায় নরম পালক হয়ে এলে
আমি কেন্দ্রীভূত হই তার বিবিধ শব্দে মেতে।
তুমি যেন মোম হও পাশে।
মৃদু নিভে যাওয়ার ঠিক কিছু আগে।
ভেজানো দরজায় রাত গভীরে নামে যত
জুতো জোড়া তেমনিই পরে থাকে অবিকল ফ্লোরে।
হাওয়ার অন্ধকারে আমি টের পাই এইসব।
আরো ভোরের কাছাকাছি
কোন সবুজাভ এক বৃষ্টির পরে
ঋতুভেদ হয় স্বপ্নের।
ঘুমন্ত অবশেষে আমি পাখি হই খুব।
যখন রাতের হাওয়ারা মারা যায় একে একে।
-------------------------------------------

আর্টের স্কুল

আর্টের স্কুল


আমি অনেকক্ষণ বসে আছি একই অবয়ব ভেবে।
দূরতম ইঞ্জিন আর ঢেউয়ের শব্দ শুনে শুনে
সচকিত হই প্রতিবার;
জড়িত হই এই ভীষণ অবেলায়।

এখানে ঋতুভেদে সাঁকো পাল্টায় জানি।
ফ্লুরোসেন্ট প্রতিবেশে রিফিউজি জমে যত্রতত্র ।
কী এক নখর শ্বাপদের মতো সহসা গ্রাস করে সর্বস্ব !
লেকের মানুষগুলো তখন বড্ড আঁটোসাঁটো হয়ে পড়ে ।
বরফকলের যে কজন ছিলো আমার আশেপাশে এই সুতীব্র কুয়াশায়
আমি রঙের টিউবে ওদের চোখ আঁকি; যেন বিশদ ঘটনাবহুল কত!
-------------------------------------------------------------

অর্কিডের গল্প

 অর্কিডের গল্প

প্রকাশ্যে ঠোঁট ছুঁয়েছিলো বহুআগেই।
খুঁজেছিলো চৌকাঠ ডিঙানো এক বিকেলের প্রশ্রয়।
গল্প-উপন্যাসে যেমন কারচুপির অভিযোগ থাকে
একই বিছানায় গোপন অর্কিডের বায়না
প্রাইস ট্যাগগুলোর মার্জিনাল সতর্কতা
কিংবা যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাবে 
কিছু তাড়াহুড়ো চুম্বন
মডারেট দূরত্বে খানিকটা লুটপাট
এই-ই তো!

তারপর তুমি ঠিকই রিকশা ডাকো।
যেতে যেতে ভালোবাসা আর 
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংক কষো।
হয়তো মেঘচোখে ভুল করো বারবার।
------------------------------------------

জলচৌকি

জলচৌকি


তোমার চোখের রঙে
আমার তেমন কিছু যায় আসে না।
তবু মেঘ বোঝাই রবিবারগুলো
দেখি সাধ করে উপোস কাটাচ্ছে।
তোমার বসবার জলচৌকিতে জমছে
ওদের নৈতিক দাবী-দাওয়া,
কিছু প্রাত:ভ্রমনের আবেদনপত্র,
কয়েকটি অনুতপ্ত বৃষ্টির দিন।

তবু তোমার চোখের রঙে
আমার কিছু যায় আসে না।
যেমন যায় আসে না পাঁচকোটি বিকেল
তাড়া করে ফেরা যুবকদের
মাথাপিছু হীনমন্যতায়।
--------------------------

আরো ঠিক কতো মানুষ মরে গেলে শুয়োরগুলো খোঁয়াড়ে ফিরে যাবে?



ওরা কানে দু'হাত চেপে রাত ভোর করে দেয়।
ভেবেছিলো হয়তো ঘোর কেটে যাবে।
হয়তো এইবারের বিরতি শুধুই সাময়িক নয়।

তাই জোড়া চোখগুলো দিগ্বিদিক শুধু নিজেদের ছায়া খুঁজে ফিরে।
যখন বেইত লাহিয়ার আকাশ ভয়ানক ঈশ্বরহীন হয়ে ওঠে।
যখন ওদের বাচ্চাগুলো ভরদুপুরে একে একে মারা যায়;
আমার মতো কিছু লোক টিভি সেটের সামনে বসে
এই নির্লজ্জ সময়ের সাক্ষী হয়।
-------------------------

টুথব্রাশ

টুথব্রাশ


না হয় আমি মেনেই নিয়েছিলাম সব।

এমনকী চার-চারটে বন্ধ্যা বিকেল!

তবু তোমাদের আড়িপাতা বারান্দায়

আমার ঝুলে থাকা বয়স

মাকড়সার মতো নীল নীল হয়ে ওঠে

তোমার স্হপতি বাবার ভয়ে।

তবু না হয় মেনেই নিয়েছিলাম সব।

এমনকী চার-চারটে গোপন বিকেল,

তোমার আমার একটা টুথব্রাশ!
-------------------------------------

চায়ের দোকানে

চায়ের দোকানে


ওপাশের বেঞ্চিতে চায়ের দাগ
তুরস্কের মানচিত্রের মতো সংবেদনশীল।
চুমুক দেবার কাপে জমে মৃদু ছাইপাশ,
বাহারি নিকোটিনে সাজানো পসরা,
শশব্যস্ত সমাজের আনাগোনা।

কিছু আগে যারা এসেছিলো ওরাও ফিরে গেছে।
দু একটি কিংবদন্তী কেবল
উড়ে........উড়ে..........
নেহায়ৎ বসবার জায়গা পায়নি বলে
মার্কসবাদী ঝড় তুলে।
আজকাল তুরস্কে পা রেখে ঠায় বসে থাকি আমি।
এই রকম ভীষণ নির্লিপ্ত বিকেলে।
-----------------------------------

শীতের সকাল

শীতের সকাল


ছককাটা রোদের লেবাস জড়িয়ে
আনুমানিক সময় বসত গাড়ে আমার ব্যালকনিতে।
রম্বসের ঘড়ি দেখে দেখে পৌষবয়সী আমি
পিঠ এলিয়ে দিই রোদে।
সংখ্যা গুনি প্রতিবেশী সূর্যাহতের।

শীতকালীন সৌজন্যতা ভুলে
আমি তাকিয়ে দেখি এইসব।
ওরাও হয়তো জেনে গিয়েছিলো
মুখরোচক নৈশগীতের কথা।
নইলে কি আর রোজ রোজ এতো ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে?

---------------------------------------

চারুলতার বড় হওয়া

চারুলতার বড় হওয়া


গাদাগাদি করে ওরা জনাপাঁচেক
ফাঁকা পেয়ে ঢুকে পড়লো
চারুলতার নিউরনে।

অখন্ড অবসরের ফলে
হা করে খোলাই ছিলো সদর দরজা।
তদুপরি ভর দুপুরের চিলেকোঠা,
মনোযোগেই বা কি উপায়!

তাই, অশীতিপর কচ্ছপের মতন সাঁটিয়ে পিছুটান
চিরসাবধানী,অক্ষতযোনি চারুলতা
নিয়মিত হলো বড় হওয়ায়।
-------------------------------------

লোকটা এবং তার গীটার

লোকটা এবং তার গীটার


বার কয়েক ফোঁড়ন কেটেও কোন সুরাহা হলো না।
নির্জনতার অজুহাতে লোকটা
দিব্যি বাজিয়ে গেল মিক্সোলিডিয়ান ঢং-এ
সাঁড়াশি চলল বহুবার।
দীর্ঘ আঙুলের সেতু,
জড়িত ছিলো কী এক প্রগাঢ় জড়তায়!

নিচে ধূলো মলিন চরে ফ্রেডের এপার ওপার।
লহমায় কেটে গেল সেই বিকেলের অনুষদ
ঘন ঘন চায়ের কাপে এবং প্রতিবেশী ধোঁয়ায়
ফিরতি পথে কে যেন বলে উঠলো-

ওর নাকি যাদুকর হওয়ার খুব একটা ইচ্ছে ছিলো না!
---------------------

কাক

কাক


সরাইখানার পাশ ঘেঁষে
রবিবারের রাস্তাগুলো
আনমনে নেমে গিয়েছে বহুদূর।
প্রায় স্যুরিয়ালিস্টিক আবর্জনা যেন।

খড়খড়ে তোয়ালে মেলা ছাদে
কাকদের এবং ঈশ্বরের ভোজসভায়
ওদেরও টেড হিউজ হওয়ার সাধ জাগে।

-----------------------------------

একটি কর্পোরেট ভোর


একটি কর্পোরেট ভোর

আমি সাবধানে আঁকছি
দু'টি পাশাপাশি ভোর;
একটা সি/৪ এপার্টমেন্ট।
কিংবা তার থেকে গজিয়ে ওঠা ল্যান্ডস্কেপে
একটা লিফটের চৌকাঠ।
যেটা ক্ষয়ে গেছে খুব নিচে
গুমোট গ্যারেজের দিকে।
যেখানে আলতামিরার মত
আরো অন্ধকার এসে
চকিতে দেখে নিচ্ছে কর্পোরেট মে
ঘ,
ব্যালকনি ভোর,
ইস্পাতবহুল।
স্কুলগামী বালকগুলো এ সময়ে
রোজ নেমে এলে
সিঁড়িঘরে আমি একটা রঙের টিউব খুঁজে মরি।
যার থাকার কথা ছিলো খুব
এইসব নির্লিপ্ত রেলিঙে,


ওদের জুতোর সুখতলায়।
-----------------------------

ঘেরাটোপ


ঘেরাটোপ

ইদানীং প্রায়ই আমি নৈ:শব্দ্যে ভুগি।
ঘর্মাক্ত পেশীতে হাতড়ে বেড়াই বেসিনের জল।
যা কিনা ক'দিন আগেও যথেষ্ট শব্দময় ছিলো
বয়:প্রাপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাসে।
অনিবার্য ভেবে অপরিচিতার বালু-পাহাড়ী কটিদেশ
ছুঁয়ে দেয় প্রসন্ন পরাসক্তি,
রটে যায় তাঁর নাইতে নামার খবর।
অসমর্থিত সূত্র ধরে আমি তখন বীরভূমের জুয়াড়ী।
শব্দে ক্লেদে ভারাক্রান্ত ভীষন?
না কি
গলুই চাপা অভিমান?
নিবারনের বোন তো ঠিকই বলেছিলো।
আমাকে পর্যাপ্ত পরিমানে শব্দ এনে দেবে ডাকঘরে,
তার অসাবধানী স্তনের কানাকানিতে শব্দেরা
গিনিপিগ হয়ে ঘুরে বেরাবে ইত:স্তত।
সূর্যাস্তের হাওয়া মেখে আমি দিব্যি রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাব।
আরো কত আবেগ ঘন কাসুন্দি!
এখন আমি নিয়মিত টবের গাছে সূর্য নামাই,
ঈষৎ গেলাসে আঙুরের রং আঁকি আর
ল্যাম্পপোষ্টের কাছে নিঃসঙ্গতা ধার চেয়ে
রাত জাগে শব্দ খুঁজে ফিরি ।
---------------------------------

বায়ুকল

বায়ুকল
(অতি সম্প্রতি সদলবলে অরন্যে রাত্রি যাপনের পর প্রিয় কবি'র নির্লজ্জ অনুকরন)

কী এক অন্তরঙ্গ জ্যোৎস্নার থেকে
নিমেষে নিমের বনে তক্তপোষ পেতে
আমরা ক'জন মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে
অপেক্ষার সারারাত কাটাই
সহস্র বছরের নক্ষত্রেরও আনমনে
কেউ যেন কথা দিয়েছিলো এ রাতের।
বুনো ঘাসের আলগোছে আজ বহুদিন পর
তার কথা মনে পড়ে
গাছের ছায়ায় ছায়ায় ঘাই মারে শুক্লপক্ষের চাঁদ
দূরে কোথাও নিস্তরঙ্গ শিরীষের ডালে 
এক বিরহিনী লক্ষীপেঁচা
তার ডাক শুনি যেন এই যাদুকর জ্যোৎস্নায়।
ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দে শব্দে সন্তর্পনে 
অন্ধকার আরো গভীরে নামে।
অশরীরী হাওয়ার 'পরে মেঘ বুনে সিগারেট আর
আমরা ক'জন মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে
বুকের হাঁপরে এক চিলতে সুবাতাস নেবো বলে সযত্নে হা করে থাকি।
-----------------------

বৃষ্টি প্রধান কাব্য


বৃষ্টি প্রধান কাব্য



শুধু নিরাপত্তার খাতিরে বৃষ্টিতে ভেজা আমার হয়ে উঠে না
তাই আমি তোমার খাতিরে বৃষ্টিতে ভিজি
ভিজতে ভিজতে পুরুষ কাক হয়ে যাই
অবশ্য তুমি বললে অন্য কিছুও হতে পারি
যেমন আকাশলীনার boyfriend
কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
--------------------

রংdecision


রংdecision

টানা তেরো দিন বৃষ্টিতে ভেজার পর বুঝতে পারলাম
এই আকালে সন্ন্যাস খুঁজতে যাওয়ার কোন মানে হয় না।
এর চেয়ে তোমার প্রেমিক হয়ে যাওয়া ঢের ভালো ছিলো।


------------------------

কবি

কবি

আরো একদল বিধ্বস্ত কবি
হেঁটে গেলো পৃথিবীর তীর ধরে।
শেকল পরানো পায়ে
রক্তাক্ত কবিতার দাগ নিয়ে
নিদ্রাহীন গিলোটিনের নিচে
এক একজন ভয়ংকর দূর্ধর্ষ।

শুকনো গদ্যের মৌসুমে ওরা
জবাবদিহিতা মূলক বৃষ্টিপাত চেয়েছিলো,
চেয়েছিলো দ্বিধাহীন,
বাদল মুখর দিন
কেটে যাবে এমন
ব্যক্তিগত না পাওয়ার বেদনায়।
----------------------------------

একটা কবিতার ডেলিভারি


একটা কবিতার ডেলিভারি

চলুন তবে এবার করা যাক কিছু খুন
এই প্রাগৈতিহাসিক কসাইখানায়।
ঠিক ঠিক ভুলে আসুন 
সব কর্ডিয়াল শুভেচ্ছাবানীগুলো।
ওগুলোর মতো নচ্ছার আরেকটা দেখিনি এ তল্লাটে, জানেন?
কিঞ্চিৎ মাতাল হয়েও নিতে পারেন এই খারাপির আগে।
দু'য়েক প্যাক বের্টোল্ট ব্রেখট
কিংবা বোদলেয়ারে কিছু র‌্যানডম সুখটান।
এপেটাইজার হিসেবে নেহায়ৎ মন্দ নয় বইকি!
দয়া করে ঐ অভিধানটাকে জড়াবেন না এবেলায়।
বিগত দিনেও বহুত ভুগিয়েছে ও ব্যাটা!
তবে হ্যাঁ,যদি ঘুম বিলাস থাকে প্রবল
তবে একখানা খাসা বালিশ পাবেন বটে।
আরো একবার ভেবে নিন
আপনার প্রিয়তমার মুখখানি।
সে কি গত বসন্তেও বিছানায় ছিলো
এমন জলজ তৎপর?
তাই বলি মশাই-
মখমলের মুখ মুছে আসুন বেসিন থেকে।
লাস্যময় উগলে দিন যত সংশ্লেষপ্রবণ
এবং বমি করুন।
বমি করুন যথেচ্ছ 
বেডরুম লাগোয়া বাথে,
মেমোরিয়াল ব্যালকনিতে,
ওয়ার্ডড্রবের মিহিন দাম্পত্যে।
এইসব এসিডিটির মতন ফ্লুরোসেন্ট বোধ
এসে জমে যাচ্ছে যখন
তখন চলুন তবে ধরা যাক একে একে
কিছু শব্দঘন প্রতিবেশ।
সার বেঁধে দাঁড় করাই ওদের সাঁজোয়া শেষকৃত্যে।
অত:পর বাঁপাশে ছুরি বসিয়ে নিংড়ে বের করে আনি
কিছু দশ কিংবা বারো আউন্স মতন।
-------------------------------------

রিকশা এবং প্রস্টিটিউট


রিকশা এবং প্রস্টিটিউট


মোড় পেরিয়ে রিকশাটা চলে যাচ্ছে আরো সামনে।
হয়তো তেমাথায় যাবে কেউ।
কিংবা আরো কিছু সামনে
যেখানটায় ভিড়বাট্টা ফুঁড়ে
একটা চৌকস সার্কাস শহর
রুগ্নভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
দাঁড়িয়ে আছে সেলুন
ও তার অন্ধকার।

রিকশা আরোহিনী এইসময়ে
আড়াআড়ি পা তুলে বসলে
চকিতে শোকেসে ঢুকে পড়ে
একটা লাল পেটিকোট।
তার অধ:স্তন কালো রঙ সমেত
রোদের মতন আবহাওয়ায়
ছোপ ছোপ ব্লাউজে লেগে থেকে 
কটাক্ষ ফুটপাথের।
উচ্চকিত পারসে তারা
পাছা মেলে দেখিয়ে দেয় 
সামাজিক ছাড়পত্র।
ক্ষতমুখ আঁইশের মত ঠোঁটে তবু
পিছলে যায় সহস্র এঁটো মহাকাল;
আকাশে পাতানো একটা ওভারব্রীজ
এবং এরকম আরো কিছু সুরম্য বিষয়।
-----------------------------------------

গত রাতের ফুটপাথের আসর থেকে


গত রাতের ফুটপাথের আসর থেকে


নিহতের মতন রাত্রি গুলো
আবারও খুবলে নিচ্ছে 
যৌথ ভুলের প্রশ্রয়।
গলদেশ বেয়ে উঠে আসছে 
নির্বাচিত ফুটেজরা;
প্রচ্ছদের আশা করে যারা 
নিয়মিত হারিয়ে যাচ্ছে।

মৃত ক্রসিং এর ভিড়ে উলঙ্গ বিলবোর্ড
যেন শুধু নিয়ন বাতির মতন পেয়েছে সংকেত
স্হানীয় ফুটপাথের।
আমি তবু প্রাণপনে ভুলে যাচ্ছি
তোমার গ্রাফিক্যাল কটিদেশ।
গন্ধ ব্যাকুল বিলাস পন্হা সব।

মীন জাতিকা,
তুমি কি আগেই জানতে?
এমন সকরুন বোধিসত্ব হবে জীবন?


--------------------------------

নেইলকাটার


নেইলকাটার
(আমার প্রিয় কবির স্মরণে, অনুকরনে) 


নখ গুলো মরে গেছে বহু আগেই।
রাতের ফ্লোরে তবু 
ওদের জীবিত আত্মীয়রা এসে
নখেদের সৎকার দেখে বার বার।
দেয়ালের বাতি নিভে গেলে পরে 
এখানে অজস্র আঁধারে তারা প্রাণ পায় যেন  
আমারই ঘুমের পাশে।

যুগপৎ ভেবে ভেবে 
এমন-ই জীবন চেয়েছিল বুঝি? 
মীথময়?
যেন কোন প্রগাঢ় বেদনায় 
বহুদিন জাগবে না জেনেও
চাপা পড়ে আছে আজো 
সহস্র সময়, 
প্রয়াত: নখ মঞ্জুরি।
অথচ চারদিকে মশারির মতন নিস্তব্ধতা নেমে এলে
আমিও টের পাই 
তাদের বিবিধ প্রস্তুতি।
আলগোছে ভেবে দেখি 
এই সব নখেদের বিদ্রোহ।

অত:পর.....
একখানা চৌকস নেইলকাটার!
---------------------------------------------------