অপ্রকাশিত জীবনানন্দ

বহুবিধ চেষ্টা করেও আমি আজ পর্যন্ত "কালি ও কলম" এর নিয়মিত পাঠক হতে পারি নি।"পা" খানি হাতে নিয়ে কেবল "ঠক" হয়ে রইলাম নিজের কাছে।"কালি ও কলম" এর প্রতি এই ভালো লাগাটা নতুন নয় সেটা হোক পঠনে কিংবা দর্শনে।কাইয়ুম চৌধুরী যদি আর্টিস্ট না হয়ে কোন দৈব কারনে বিউটিশিয়ান হতেন তাহলে হলফ করে বলতে পারি প্রতি মাসে ঘটা করে আরো ডজন খানেক সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন দেখতাম আশেপাশে।
যাই হোক মূল বিষয়টা আসলে প্রিয়তম কবি জীবনানন্দ দাশকে ঘিরে।এবার ফাল্গুনে "কালি ও কলম" ভূমেন্দ্র গুহের সৌজন্যে "কবিতার পান্ডুলিপির খাতা ১৭" শিরোনামে কবির কিছু অপ্রকাশিত কবিতা ছেপেছে।আমার মা প্রায় বলেন প্রিয় জিনিস নাকি ভাগ করে খেতে হয়।তাই আসুন পড়া যাক শুদ্ধতম কবির কিছু শুদ্ধতম কবিতা।অবশ্য মূল পাতা জুড়ে কাইয়ুম চৌধুরীর যে নান্দনিক যাতায়াত ছিলো সেটা পাতে পড়লো না বলে যারপরনাই দু:খিত।


সাত
আমি কি আবার সেই নদীটিরে খুঁজি
মধ্যসমুদ্রের কোলে ব'সে
অন্ধকার রজনীরে বুকে নিয়ে
যাত্রাগত জীবনের শেষ পরিনাম
এমনই বা শান্তি --নিস্তব্ধতা
নদীরা জানে না এই প্রথা
জীবনের আশা করে সমুদ্রের বুকে এরা যেতেছে হারিয়ে
মৃত নাবিকের ভিড় জানে শুধু
মৃত বনস্পতিদের কান্ডে ভেসে ভেসে-
যে জীবন জলের গোলকধাঁধাঁ--অন্ধকার সময়হীনতা।

আট
'হে প্রাণ, তুমি কি উষ্ট্র;হে মৃত্যু, তুমি কি মরুভুমি'
'কোন জাতিস্মর জীবনের জন্ম হয় নাক'১
যেন শুধু জলের মতন পেয়েছে জীবন
আকাশের প্রতিবিম্ব বুকে রেখে
---তবু চোখ হীন ;---অবিকল দিক নির্ণয়নে
মানুষের ক্ষুধা, আশা ,নিষ্ফলতা ,মরণের মনে
জন্ম পেয়ে চির দিন লভিতেছে কুশ অগ্র স্বপ্নহীন নিরাবিল
বস্তুবিষয়তা----'

'হে নদী তুমি কি এই কথা বল' ---
শুধাল অসংখ্য পঙ্গু কার্তিকের নিরালোকে
'জাহ্নবী, কী বৈতরনী---দেখি না তোমাকে।
অথবা মৃত্যুর শান্তি ----অথবা প্রাণের জয়গান তুমি?
হে মৃত্যু তুমি কি উষ্ট্র ?প্রাণ তুমি কি মরুভূমি?'

বিকল্প :১ হবে মোর


নয়
কোথাও সূর্যের যেন নব নব জন্ম ঘিরে
মরণ উড়তে আছে শ্বেত পারাবত
কোথাও নক্ষত্রগুলি নিরাবিল রাত্রি নিয়ে
জীবন কি বৈতরনী তরীর নাবিক?

পারাবত,পারাবত তোমার হৃদয়ে ঢের রক্তবর্ণ ক্ষুধা
যেই খানে বর্ণহীন নিস্তব্ধতা ---তরঙ্গের প্রাণে কোনও অঙ্কুরের সুধা
ক্ষরিবে না কোনও দিন ----সব প্রীত ভ্রমণের শান্তি দিয়ে চিত্ত তার
শুদ্ধ অশ্রুহীনতায় সৎ১
আমাদের জীবনের নব নব সূর্যগুলো কপোতেরে দান২ করে
আমরাও স্হির মেরুনিশীথের নাবিকের মতন মহৎ৩
সততার দেখা পাব---সন্ধিহীন,স্বাক্ষরবিহীন।

বিকল্প: ১নত; ২প্রদক্ষিণ; ২নির্মোহ

দশ
জীবন কি নীরক্ত সম্রাট সুধাখোর
কূট ব্যবসায়ী নীল পার্শ্বচর গুলো তার মৃত্যুর উৎসব?
মানুষের তরে তবে কোন পথ
কোন অন্তরীক্ষে তারে নিয়ে যাবে আসন্ন সময়
সেইখানে বালুঘড়ি----বলো, তবে স্তব্ধতার মত
একদিন আকাশের সাথে ঢের ধ্বনি বিনিময়
করেছিল;---তার পর হয়ে গেছে আঁখিহীন ---চুপ---
প্রান্তরেরে শুষ্ক ঘাসে যে সবুজ বাতাসের আশা
একদিন বলেছিল:'আবার করিব আমি অমৃত সঞ্চয়'----
শত শত মেষশাবকের আঁখিতারকাও পেল যেন ভয়
শান্তি, শান্তি,
উত্তেজিত শপথের উৎসারণ প্লীহা ঘিরে থাকে না সতত
বালুঘড়ি হয়ে থাকে চির দিন স্তব্ধতার মত।

এন্ডগেম ও অন্যান্য

তাজা খবর নয়। বরং যথেষ্ট বাসি খবর। বাজারে "মেগাডেথ" এর নতুন এলবাম বেরিয়েছে। বাজারে না বলে বলা ভালো ইন্টারনেটে কিংবা টরেন্টে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাজারে আসার আগেই নাকি যাবতীয় জিনিসপত্র ঐখানে পাওয়া যায়। এন্ডগেমের বেলায়ও তা'র অন্যথা হলো না। ফলে অফিসিয়ালি রিলিজ হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে থেকেই আমি এন্ডগেম শুনছি। মেগাডেথ একসময়ের খুব প্রিয় একটা নাম। বিশেষ করে মার্টি ফ্রিমেন যখন জড়িত ছিলেন ব্যান্ডটার সাথে। ওসময়ের এলবামগুলোতে (ক্রিপটিক রাইটিংস্, রিস্ক) তার একটা প্রভাব ছিলো। ওটা ভালো লাগতো। পিক্সার এনিমেসনের একটা শর্ট ফিল্ম আছে। নাম "ওয়ান ম্যান ব্যান্ড"। মেগাডেথের ক্ষেত্রে কথাটা শতভাগ প্রযোজ্য। সবেধন নীলমনি হিসেবে ডেভ মাস্টেইন-ই শুধু রয়ে গেলেন। যে কোন জেনারের ব্যান্ডের ইতিহাসে এটা একটা রেকর্ড হতে পারে। মাস্টেইন সহ এ পর্যন্ত ২০ জন মিউজিশিয়ান বাজিয়ে গেছেন মেগাডেথে। সে তুলনায় উল্লেখ করার মত কোন বৈচিত্র্য আসে নি ওদের কম্পোজিশনে। এর প্রধান এবং একমাত্র কারন মাস্টেইন নিজে। লিরিক থেকে শুরু করে কম্পোজিশনের সব জায়গাতেই তিনি তীব্র আপোষহীন থেকেছেন। এবং তা এতোটাই তীব্র যে বিভিন্ন সময়ে তা ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যদের জন্যে অসহনীয় হয়ে ওঠেছিলো। মেটালিকা থেকে বের করে দেওয়ার পেছনেও এরকম কারন ছিলো। সাথে উশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং ড্রাগ বিষয়ক সমস্যা তো ছিলোই। তবে এটা হলফ করে বলা যায় যে, মেটালিকা ছেড়ে আসার সময়ে তার মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিলো, মেগাডেথ ফর্ম করার পর তা তিনি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। কারন অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মেগাডেথ হেভি মেটাল কি থ্রাশ মেটাল মহলেও তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময়ের কোন পারমানেন্ট লাইনআপ ছাড়াই মেটালিকা, এনথ্রাক্স, স্লেয়ার এর সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এটা থেকে মাস্টেইনে'র এক রোখা চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা মেলে।
মাস্টেইন নি:সন্দেহে একজন কিংবদন্তী, কিন্তু একই সাথে খুব খারাপ একজন ব্যান্ড মেম্বার, যিনি বিভিন্ন সময়ে নিজ খেয়াল খুশিতে লাইন আপে পরিবর্তন এনেছেন। কোন গ্রহনযোগ্য কারন দর্শানো ছাড়াই অন্যদের ছাঁটাই করেছেন। শুরুর দিকে অনেক খোঁজাখুঁজির করেও যখন ব্যান্ডের জন্যে কোন ভোকাল মিলছিলো না, তখন জেদের বশে নিজেই গাইতে বসলেন। মেটালিকা'র প্রতি আক্রোশটা তখনও মাথায় ছিলো। ভাগ্যিস তখন কেউ গাইতে রাজী হয় নি। নইলে আমি একজন প্রিয় ভোকাল হারাতাম। মাস্টেইনের গিটার প্লেয়িং এর চেয়ে ওর ডিফারেন্ট ভয়েসটা আমাকে বেশি আকর্ষণ করে। মাস্টারমাইন্ড, ড্রেড এন্ড দ্য ফিউজিটিভ মাইন্ড, দ্য হার্ডেস্ট পার্ট অব লেটিং গো...সিল্ড উইথ আ কিস্ সহ আরো অনেক গানই যতখানি না বাজানো তার'চে অন্যরকম ভোকালের জন্য ভালো লাগে। মাস্টেইনের খামখেয়ালিপনার সাথে মেগাডেথের লাইন আপ চেন্জকে জড়িত করে অনেক কানকথা চালু আছে। একবারে শুরুর দিকে স্লেয়ারের কেরিকিং মেগাডেথের সাথে কয়েকটা লাইভে বাজিয়েছিলেন। কেরি স্টেজে উঠলেই নাকি দর্শক শ্রোতা "স্লেয়ার! স্লেয়ার" বলে উল্লসিত হতো। এতে মাস্টেইন ব্যাপক মন:ক্ষুন্ন হন এবং দেরি না করে তৎক্ষণাৎ কেরিকে বিদায় জানান। গিটারিস্টদের মধ্যে একমাত্র মার্টি ফ্রিম্যানই দীর্ঘ দিন টিকেছিলেন। তাও মোটে নয় বছরের মত। একসময় মার্টি থ্র্যাশমেটালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং জাপানে পাড়ি জমান। মাস্টেইন বাধা দেননি। নিন্দুকেরা বলে মার্টি চলে যাওয়ায় তিনি মোটেও অখুশি হননি। বরং এবার মনের সুখে সোলো বাজানো যাবে - এই ভেবে নতুন উদ্যমে রিদমিস্ট খুঁজতে বেরোন। ২০০২ সালের দিকে মাস্টেইন বাম হাতে ইনজুরির কারন দেখিয়ে ব্যান্ড ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বিশাল ভক্তকুলের চোখ ভিজিয়ে মেগাডেথ সত্যি সত্যি ভেঙেও যায়। এসময় ডেভিডেরও বিদায় ঘন্টা বাজে, যিনি একদম গোড়া থেকেই ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। এই বেসিস্ট/গিটারিস্ট জুটি এর আগ পর্যন্ত খুব জনপ্রিয় ছিলো। বছর খানেক পরে মাস্টেইন সুস্হ হয়ে উঠলে নতুন লাইন আপ দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করেন। কিন্তু কিছু ব্যবসায়িক কারনে এবং লেবেলে'র চাপে পড়ে পুরনো নাম ঠিক রেখে অর্থাৎ মেগাডেথ নামেই নতুন এলবাম রিলিজ করেন। তখন আর পুরনো বন্ধু ডেভিডকে সাথে নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি। খানিকটা অনাহূতের মত এভাবেই মেগাডেথের দ্বিতীয় জীবন লাভ ঘটে। নতুন এলবাম ডাউনলোড করা হয়ে গেলে সচরাচর যা হয়, সপ্তাহখানেক শুধু ওটাই শুনতে থাকি। একসময় কিছু ট্র্যাকের প্রতি আলাদা ভালো লাগা জন্মে যায়। এন্ডগেম - এ একটা রোমান্টিক গান আছে "দ্য হার্ডেস্ট পার্ট অব লেটিং গো...সিল্ড উইথ আ কিস" এই শিরোনামে। মেগাডেথ এর আগেও কিছু রোমান্টিক ট্র্যাক করে মেটাল ভক্তকুলের বিরাগ ভাজন হয়েছিলো। মেটাল মূলত: কিছুটা শিশুসুলভ ব্যাপার। এখানে কারুকাজ থাকে, বাজানোয় কিংবা গাওয়ায় ষোলআনা মুন্সিয়ানা থাকে। কিন্তু সামগ্রিক প্রকাশটা হয় উদ্দাম। উদ্দামতা কখনো গভীরতার প্রতিশব্দ হতে পারে না। আমার মতে রোমান্স একটা গভীর বিষয়। একারনে ধাতব ভক্তকুলে রোমান্সের খুব একটা কদর নেই। অথচ এবারের এলবামে এই গানটাই আমার সব'চে ভালো লেগেছে।

08 - The Hardest P...


Such a pretty face
Radiant, I saw you across the room
I knew I had to have you
Thus started the chase
I knew I would do anything to take your hand and make you mine
But I learned long ago
If you love someone you have to let it go
Let it go, Let it go
The hardest part of letting go is saying
Goodbye, Goodbye, Goodbye

Feathered away in a makeshift cell
Beneath the venemos moonlight
I unleash my plan to watch you fail
The one I am so proud
Go to sleep my love
And taste my sweet revenge upon your lips
Sealed with a kiss

(Solo)

I return to the masquerade ball
And hear the news of your weeping
Stone by stone imbued in the wall
Forever left for safekeeping
Go to sleep my love
And taste my sweet revenge upon your lips
Sealed with a kiss

But I learned long ago
If you love someone you have to let it go
Let it go, Let it go
The hardest part of letting go is saying
Goodbye, Goodbye, Goodbye
(Goodbye)
(Let it go)


এলবামের প্রথম ট্র্যাকটা একটা ইনস্ট্রুমেন্টাল - "ডায়ালেক্টিক কেয়স্"। কম্পোজিশনটা অসাধারণ। গিটারিস্ট হিসেবে এন্ডগেমে কাজ করেছেন ক্রিস ব্রডেরিখ। মেগাডেথের সাথে এটাই তার প্রথম কাজ। কিন্তু মাস্টেইনের সাথে ক'দিন টিকতে পারেন এটাই এখন দেখার বিষয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

নিকানোর পার্‌রার কবিতা অথবা প্রতিকবিতা

গত কয়েকদিন ধরে প্রায় বইটাকে আমার বিছানায় বালিশের পাশে পরে থাকতে দেখি।কখনো হা করে খোলা,কখনো উপুড় করে শোয়ানো, কখনো বা বন্ধ অবস্হায়।যেহেতু আমার বিছানায় এখনো আমি একা ঘুমোই তাই প্রাথমিকভাবে ধারনা করে নেয়া যায় যে বইটি আমিই পড়ছি!
মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের একটি অনুবাদ-"শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং প্রতিকবিতা"
মূল কবিতা গুলো চিলির কবি নিকানোর পার্‌রার।বইটি পড়ার আগে এন্টিপোয়েট বা প্রতিকবিতা সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলো না।এ কারনেই হয়তো মলাটের উপর নামটি দেখে পড়বার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিলো।ভদ্রলোক "Poemas y Antipoemas" এই বইটি দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজেকে একজন প্রতিকবি হিসেবে দাবী করতেন।মরিচের মতো দেশ চিলিতে পাবলো নেরুদার পর তিনি ই সবচে বিখ্যাত কবি কিংবা প্রতিকবি।"দিসকুর্সোস" নামে কবিতা বিষয়ক তাত্ত্বিক আলোচনার একটি বইও বাজারে পাওয়া যায় যেটি দুজন মিলে ভাগাভাগি করে লেখা।নিকানোর পার্‌রার পারিবারিক ঐতিহ্য অবশ্য উল্লেখ করার মতো-পদবী দিয়েই পরিচিত এরকম একটা ফ্যামিলি।তিনি নিজেও প্রতিকবি হওয়ার পাশাপাশি আরো কিছু পরিচয় বহন করতেন।গনিতশাস্ত্র ,পদার্থবিদ্যা, কসমোলজি,তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে তিনি পন্ডিতব্যক্তি ছিলেন।মার্কিন বিরোধী মনোভাব লালন পালন করলেও তিনি পদার্থবিদ্যায় পড়াশুনা করেছিলেন মার্কিন দেশে,ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে।প্রতিকবিতা সম্পর্কে বলতে গেলে বই থেকেই একটি লাইন কপি পেস্ট করা যায় (যা আমাকে প্রকৃতঅর্থেই প্রভাবিত করেছে):
"প্রভাব ফেলতে হলে কোনকিছুকে একলক্ষ শ্লোকের মহাভারত হতে হয় না"।পার্‌রা কিংবা চেখকবি মিরোস্লাভ হোলুব -ইনারা খুব একটা নন্দনতত্ত্বের ধার ধারেন না।কবিতা যেন ঢাল তলোয়ার,রূপের চর্চার চেয়ে শান দেওয়াটাই মূখ্য বিষয়।শ্লেষ,ব্যঙ্গ, চাঁছাছোলা ভাষায় শৈল্পিক গালিগালাজও বলতে পারেন।পড়তে অবশ্য বেশ লাগে।
আমার কিছু ভালো লাগাকে পাঠকের সাথে কিঞ্চিৎ ভাগাভাগি করতে চাইছি:

আমি প্রস্তাব করছি সভা মুলতবি থাক
সেনিওর এবং সেনিওরাগণ
আমার শুধু একটাই প্রশ্ন:
আমরা কি সুর্যের সন্তান না কি মাটি পৃথিবীর?
কেননা যদি আমরা শুধু মাটিই হই
আমি কোন কারন দেখি না
এই ছবিটার শুটিং চালিয়ে যাবার!
আমি প্রস্তাব করছি সভা মুলতবি থাক।


কোন কারনে ফ্রয়েড সাহেবের উপর বেজায় নাখোশ ছিলেন।
জিগমুন্ট ফ্রয়েড
মুখভর্তি পালক নিয়ে পাখি
মনোচিকিৎসকদের আর সহ্য করবে কে?
তারা সবকিছুই জড়িয়ে নেয় যৌনতার সঙ্গে।
সবচেয়ে তাজ্জব সব দাবি
পাওয়া যায় ফ্রয়েডের রচনায়।
এই সেনিওরের মতে
সমস্ত শঙ্কুল জিনিশই
-ঝরনাকলম,পিস্তল,মুগুর,
পেনসিল,গড়গড়া,ডাম্বেল-
পুংলিঙ্গের প্রতীক;
সমস্ত বর্তুল
স্ত্রীযোনির প্রতীক।

কিন্তু মনোচিকিৎসা এগিয়ে যায় আরো অনেকদূর
শুধু যে শঙ্কুল আর বর্তুল তাই নয়
প্রায় সব জ্যামিতিক বস্তই
প্রতীক হয়ে ওঠে যৌন কারখানার
মিশরের পিরামিড যার নজির যেমন।
কিন্তু তাই সব নয়
আমাদের নায়ক কিন্তু আরো এগোন:
যখন আমরা কোন হাতের কাজ দেখি
যখন দেখি ধরা যাক বাতি কিংবা টেবিল
মনোচিকিৎসক দ্যাখেন পুরুষাঙ্গ আর যোনি।
.............................................................
.............................................................
আমরা দেখতে পাই এক মোটরগাড়ি
মোটরগাড়ি পুরুষাঙ্গের প্রতীক
আমরা দেখতে পাই একটা বাড়ি উঠছে
বাড়ি আসলে পুরুষাঙ্গের প্রতীক
আমাদের নেমতন্ন করেছে সাইকেল করে বেড়াতে যেতে
বাইসাইকেল পুরুষাঙ্গের প্রতীক
.............................................................
.............................................................
আমরা খাই রুটি মাখন
মাখন পুরুষাঙ্গের প্রতীক
এক বাগানে আমরা খানিক জিরিয়ে নিই
প্রজাপতি পুরুষাঙ্গের প্রতীক
টেলিস্কোপ পুরুষাঙ্গের প্রতীক
বাচ্চা যে বোতল থেকে দুধ খায়
তা ও পুরুষাঙ্গের প্রতীক
.............................................................
.............................................................


কাজেই দেখছেন তো আমি চটে যাই নি মোটেই
আপনাকে আমি চাঁদটাই দিয়ে দিচ্ছি
সত্যি সত্যি ভাববেন না আপনাকে নিয়ে আমি কোন ইয়ার্কি করছি:
অগভীর ভালোবাসার সঙ্গে সেটা আপনাকে উপহার দিচ্ছি আমি
আমি কোন ঠ্যাং ধরে টানবার চেষ্টা করছি না মোটেই
যান নিজেই গিয়ে সেটাকে আপনি তুলে আনতে পারেন
আপনার খুড়ো যিনি আপনাকে ভালোবাসেন
আপনার রঙ বেরঙের প্রজাপতি
আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে আসছেন পবিত্র বেদী থেকে।


কতবার একথা বলবো আপনাদের
নিয়ে আসুন কিছু কীটনাশক
ছাত থেকে সাফ করে দিন মাকড়শার জাল
জানলাগুলো ধুয়ে দিন
মাছির গুয়ে ভরা সব কাচ
ধুলো ঝাড়ুন আশবাবগুলো থেকে
আর সবচেয়ে যেটা বেশি জরুরী
এই পায়রা গুলোকে তাড়িয়ে দিন তো
ওগুলো সবসময়েই আমার গাড়ির উপর হাগছে
কোথায় রাখলেন বলুনতো দেশলাইগুলো!!


আটটি ছোট সাইজের একসাথে করে নাম দেয়া হয়েছে তারবার্তাগুলি
তারবার্তাগুলি

১.

ঢের হয়েছে ক্যাবলামি
এখানে ফরাশগুলোর তলায় কিছুই ঝাঁট দেয়া হয় নি।
ঈশ্বর জগৎটা সৃষ্টি করেছেন সপ্তাহজুড়ে
আমি সেটা একমুহূর্তে ধ্বংস করে দিই।

২.
.............................................................
.............................................................
আমি বামপন্হীও নই দক্ষিণপন্হীও নই
আমি শুধু সব ছাঁচ ভেঙে ফেলি।

৪.
.............................................................
.............................................................
আমি এসেছি মিশরের পিরামিডগুলো থেকে
সত্যি সত্যি
ক্যাথিড্রালগুলো আসলে আমার বিচি ধরে টান দেয়।


আরো ১৭টি একসাথে করে :
চেয়ারে বসে ঘুম লাগায় এমন এক কবির কাছ থেকে চিঠি
১৫ নম্বর টা শুনে দেখুন।আপাদমস্তক এ্যান্টিপোয়েটিক হয়ে যাবেন!

১৫.
শেষবারের মতো আমি বলে যাচ্ছি কথাটা
শূককীটেরা হলো দেবতা
প্রজাপতিরা সব অনিবার ছোটা ফুল
খওয়া খওয়া দাঁত
সহজেই ভেঙে যায়
আমি হচ্ছি নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগের লোক।
চোদা এক সাহিত্যকর্ম।

কিংবা পরেরটি আরো এককাঠি সরেস
হুঁশিয়ারি
কোনো প্রার্থণা চলবে না ,হাঁচিও না।
থুতু ফেলা নয়,বাহবা দেয়া নয়,হাঁটু গেড়ে বসা নয়
পূজো না,চীৎকার না,ডুকরানি না
কেশে কেশে কফ তোলা না।
এ তল্লাটে ঘুমোবার অনুমতি নেই।
কোনো টিকে দেয়া না ,কথাবার্তা না,দল থেকে তাড়িয়ে দেয়া না।
চোঁ চোঁ দৌড় না,পাকড়ে ফেলা না।
ছোটা একেবারেই নিষেধ।
ধূমপান নিষেধ ।চোদা বারণ।

আধুনিক মানুষ
একটা ফাঁদে পড়ে গিয়েছি
মাত্র সাতটা রাস্তাই খোলা আছে তার কাছে
আর তাদের কোনো টাই রোম অব্দি নিয়ে যায় না।





এইসব পড়তে পড়তে প্রায় একটা কথা মাথায় ঘুরপাক খায়--
কাকে বলে কবিতা যদি তা না-বাঁচায় দেশ কিংবা মানুষ?
--------------------------------------------চেশোয়াভ মিউশ