গভীর সমুদ্র বন্দর
ক'দিন হলো একটা নিঃসঙ্গ গাঙচিল আমাদের
ভ্যান্টিলেটরে বাসা বেঁধেছে। সেই
থেকে দেখছি তার তীক্ষ্ম নখে আয়না'র মত বিঁধে গেছে শহরের
সমস্ত মনোযোগ, কথোপকথনের
জ্যামিতি। বিশেষ
করে এমন বর্ষার মৌসুমে যখন
অফিস ছুটির পরে কারুরই
তেমন কিছু করার থাকে না, তখন
এই আগন্তুক গাঙচিলটি যেন সবার
জন্যে একটা প্রাঞ্জল উপলক্ষ্য হয়ে ওঠে। ইদানীং অনেকেই যেমন দলবেঁধে তার গল্প শুনতে আসে। অনেকেই
আবার আসে না।
শুনেছি
নিঃসঙ্গ গাঙচিল প্রতিরাতে একটা
গভীর সমুদ্র বন্দরের গল্প বলে। যে
গল্পে শালিকের চোখে দীর্ঘ
শীতকাল ঘুরে বেড়ায়। যে গল্পে অতল জলরাশি এসে ভিড়
করে দরজার কাছে, গহীন
ঝাউবনে; মা
নীলতিমি ঘুমিয়ে পড়ে শামুকের গহ্বরে। যে
গল্পে গভীর সমুদ্র বন্দরেরও পত্রমিতা থাকে। তার নীল খামে লেখা থাকে নির্জনতা, নভোচারী'র মত একাকী বেঁচে থাকার অনুপম
সব মেথডোলজি।
সমুদ্র
পাড়ি দেয়া নিঃসঙ্গ গাঙচিল হায়! তার
মুখে এই সব শুনে শুনে আমাদেরও
চোখ চকচক করে উঠে। এক
আশ্চর্য, দুর্লভ
জনহীনতা আমাদের মনে প্রচন্ডভাবে জেগে থাকে। কাউকে কাউকে ডুকরে কাঁদায়।
-------------------------------------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন