বহুবিধ চেষ্টা করেও আমি আজ পর্যন্ত "কালি ও কলম" এর নিয়মিত পাঠক হতে পারি নি।"পা" খানি হাতে নিয়ে কেবল "ঠক" হয়ে রইলাম নিজের কাছে।"কালি ও কলম" এর প্রতি এই ভালো লাগাটা নতুন নয় সেটা হোক পঠনে কিংবা দর্শনে।কাইয়ুম চৌধুরী যদি আর্টিস্ট না হয়ে কোন দৈব কারনে বিউটিশিয়ান হতেন তাহলে হলফ করে বলতে পারি প্রতি মাসে ঘটা করে আরো ডজন খানেক সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন দেখতাম আশেপাশে।
যাই হোক মূল বিষয়টা আসলে প্রিয়তম কবি জীবনানন্দ দাশকে ঘিরে।এবার ফাল্গুনে "কালি ও কলম" ভূমেন্দ্র গুহের সৌজন্যে "কবিতার পান্ডুলিপির খাতা ১৭" শিরোনামে কবির কিছু অপ্রকাশিত কবিতা ছেপেছে।আমার মা প্রায় বলেন প্রিয় জিনিস নাকি ভাগ করে খেতে হয়।তাই আসুন পড়া যাক শুদ্ধতম কবির কিছু শুদ্ধতম কবিতা।অবশ্য মূল পাতা জুড়ে কাইয়ুম চৌধুরীর যে নান্দনিক যাতায়াত ছিলো সেটা পাতে পড়লো না বলে যারপরনাই দু:খিত।
সাত
আমি কি আবার সেই নদীটিরে খুঁজি
মধ্যসমুদ্রের কোলে ব'সে
অন্ধকার রজনীরে বুকে নিয়ে
যাত্রাগত জীবনের শেষ পরিনাম
এমনই বা শান্তি --নিস্তব্ধতা
নদীরা জানে না এই প্রথা
জীবনের আশা করে সমুদ্রের বুকে এরা যেতেছে হারিয়ে
মৃত নাবিকের ভিড় জানে শুধু
মৃত বনস্পতিদের কান্ডে ভেসে ভেসে-
যে জীবন জলের গোলকধাঁধাঁ--অন্ধকার সময়হীনতা।
আট
'হে প্রাণ, তুমি কি উষ্ট্র;হে মৃত্যু, তুমি কি মরুভুমি'
'কোন জাতিস্মর জীবনের জন্ম হয় নাক'১
যেন শুধু জলের মতন পেয়েছে জীবন
আকাশের প্রতিবিম্ব বুকে রেখে
---তবু চোখ হীন ;---অবিকল দিক নির্ণয়নে
মানুষের ক্ষুধা, আশা ,নিষ্ফলতা ,মরণের মনে
জন্ম পেয়ে চির দিন লভিতেছে কুশ অগ্র স্বপ্নহীন নিরাবিল
বস্তুবিষয়তা----'
'হে নদী তুমি কি এই কথা বল' ---
শুধাল অসংখ্য পঙ্গু কার্তিকের নিরালোকে
'জাহ্নবী, কী বৈতরনী---দেখি না তোমাকে।
অথবা মৃত্যুর শান্তি ----অথবা প্রাণের জয়গান তুমি?
হে মৃত্যু তুমি কি উষ্ট্র ?প্রাণ তুমি কি মরুভূমি?'
বিকল্প :১ হবে মোর
নয়
কোথাও সূর্যের যেন নব নব জন্ম ঘিরে
মরণ উড়তে আছে শ্বেত পারাবত
কোথাও নক্ষত্রগুলি নিরাবিল রাত্রি নিয়ে
জীবন কি বৈতরনী তরীর নাবিক?
পারাবত,পারাবত তোমার হৃদয়ে ঢের রক্তবর্ণ ক্ষুধা
যেই খানে বর্ণহীন নিস্তব্ধতা ---তরঙ্গের প্রাণে কোনও অঙ্কুরের সুধা
ক্ষরিবে না কোনও দিন ----সব প্রীত ভ্রমণের শান্তি দিয়ে চিত্ত তার
শুদ্ধ অশ্রুহীনতায় সৎ১
আমাদের জীবনের নব নব সূর্যগুলো কপোতেরে দান২ করে
আমরাও স্হির মেরুনিশীথের নাবিকের মতন মহৎ৩
সততার দেখা পাব---সন্ধিহীন,স্বাক্ষরবিহীন।
বিকল্প: ১নত; ২প্রদক্ষিণ; ২নির্মোহ
দশ
জীবন কি নীরক্ত সম্রাট সুধাখোর
কূট ব্যবসায়ী নীল পার্শ্বচর গুলো তার মৃত্যুর উৎসব?
মানুষের তরে তবে কোন পথ
কোন অন্তরীক্ষে তারে নিয়ে যাবে আসন্ন সময়
সেইখানে বালুঘড়ি----বলো, তবে স্তব্ধতার মত
একদিন আকাশের সাথে ঢের ধ্বনি বিনিময়
করেছিল;---তার পর হয়ে গেছে আঁখিহীন ---চুপ---
প্রান্তরেরে শুষ্ক ঘাসে যে সবুজ বাতাসের আশা
একদিন বলেছিল:'আবার করিব আমি অমৃত সঞ্চয়'----
শত শত মেষশাবকের আঁখিতারকাও পেল যেন ভয়
শান্তি, শান্তি,
উত্তেজিত শপথের উৎসারণ প্লীহা ঘিরে থাকে না সতত
বালুঘড়ি হয়ে থাকে চির দিন স্তব্ধতার মত।
যাই হোক মূল বিষয়টা আসলে প্রিয়তম কবি জীবনানন্দ দাশকে ঘিরে।এবার ফাল্গুনে "কালি ও কলম" ভূমেন্দ্র গুহের সৌজন্যে "কবিতার পান্ডুলিপির খাতা ১৭" শিরোনামে কবির কিছু অপ্রকাশিত কবিতা ছেপেছে।আমার মা প্রায় বলেন প্রিয় জিনিস নাকি ভাগ করে খেতে হয়।তাই আসুন পড়া যাক শুদ্ধতম কবির কিছু শুদ্ধতম কবিতা।অবশ্য মূল পাতা জুড়ে কাইয়ুম চৌধুরীর যে নান্দনিক যাতায়াত ছিলো সেটা পাতে পড়লো না বলে যারপরনাই দু:খিত।
সাত
আমি কি আবার সেই নদীটিরে খুঁজি
মধ্যসমুদ্রের কোলে ব'সে
অন্ধকার রজনীরে বুকে নিয়ে
যাত্রাগত জীবনের শেষ পরিনাম
এমনই বা শান্তি --নিস্তব্ধতা
নদীরা জানে না এই প্রথা
জীবনের আশা করে সমুদ্রের বুকে এরা যেতেছে হারিয়ে
মৃত নাবিকের ভিড় জানে শুধু
মৃত বনস্পতিদের কান্ডে ভেসে ভেসে-
যে জীবন জলের গোলকধাঁধাঁ--অন্ধকার সময়হীনতা।
আট
'হে প্রাণ, তুমি কি উষ্ট্র;হে মৃত্যু, তুমি কি মরুভুমি'
'কোন জাতিস্মর জীবনের জন্ম হয় নাক'১
যেন শুধু জলের মতন পেয়েছে জীবন
আকাশের প্রতিবিম্ব বুকে রেখে
---তবু চোখ হীন ;---অবিকল দিক নির্ণয়নে
মানুষের ক্ষুধা, আশা ,নিষ্ফলতা ,মরণের মনে
জন্ম পেয়ে চির দিন লভিতেছে কুশ অগ্র স্বপ্নহীন নিরাবিল
বস্তুবিষয়তা----'
'হে নদী তুমি কি এই কথা বল' ---
শুধাল অসংখ্য পঙ্গু কার্তিকের নিরালোকে
'জাহ্নবী, কী বৈতরনী---দেখি না তোমাকে।
অথবা মৃত্যুর শান্তি ----অথবা প্রাণের জয়গান তুমি?
হে মৃত্যু তুমি কি উষ্ট্র ?প্রাণ তুমি কি মরুভূমি?'
বিকল্প :১ হবে মোর
নয়
কোথাও সূর্যের যেন নব নব জন্ম ঘিরে
মরণ উড়তে আছে শ্বেত পারাবত
কোথাও নক্ষত্রগুলি নিরাবিল রাত্রি নিয়ে
জীবন কি বৈতরনী তরীর নাবিক?
পারাবত,পারাবত তোমার হৃদয়ে ঢের রক্তবর্ণ ক্ষুধা
যেই খানে বর্ণহীন নিস্তব্ধতা ---তরঙ্গের প্রাণে কোনও অঙ্কুরের সুধা
ক্ষরিবে না কোনও দিন ----সব প্রীত ভ্রমণের শান্তি দিয়ে চিত্ত তার
শুদ্ধ অশ্রুহীনতায় সৎ১
আমাদের জীবনের নব নব সূর্যগুলো কপোতেরে দান২ করে
আমরাও স্হির মেরুনিশীথের নাবিকের মতন মহৎ৩
সততার দেখা পাব---সন্ধিহীন,স্বাক্ষরবিহীন।
বিকল্প: ১নত; ২প্রদক্ষিণ; ২নির্মোহ
দশ
জীবন কি নীরক্ত সম্রাট সুধাখোর
কূট ব্যবসায়ী নীল পার্শ্বচর গুলো তার মৃত্যুর উৎসব?
মানুষের তরে তবে কোন পথ
কোন অন্তরীক্ষে তারে নিয়ে যাবে আসন্ন সময়
সেইখানে বালুঘড়ি----বলো, তবে স্তব্ধতার মত
একদিন আকাশের সাথে ঢের ধ্বনি বিনিময়
করেছিল;---তার পর হয়ে গেছে আঁখিহীন ---চুপ---
প্রান্তরেরে শুষ্ক ঘাসে যে সবুজ বাতাসের আশা
একদিন বলেছিল:'আবার করিব আমি অমৃত সঞ্চয়'----
শত শত মেষশাবকের আঁখিতারকাও পেল যেন ভয়
শান্তি, শান্তি,
উত্তেজিত শপথের উৎসারণ প্লীহা ঘিরে থাকে না সতত
বালুঘড়ি হয়ে থাকে চির দিন স্তব্ধতার মত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন