ক'দিন আগে অরুণকুমার সরকারের লেখা 'জীবনানন্দ দাশকে যেমন দেখেছিলাম' - এর অংশবিশেষ পড়ছিলাম। নিতান্ত সাধাসিধে জীবনযাপন করলেও কোন অদ্ভুত কারনে কবিকে তার কবিতাগুলোর মতই রহস্যময় মনে হয়। বিশেষ করে নিজের কবিতায় কবি যখন তার আটপৌরে জীবন যাপন, প্রেম-বিরহ, সংসার-গ্লানির কথা বলেন তখন বিষয়টা যেন আরো প্রাণ পায়, পাঠকের জন্যেও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
------------
যেমন ধরুন জয় গোস্বামী'র 'পাখি হুস' কবিতাটার কথা। যেখানে তিনি তার জাস্ট-ইয়েট-এনাদার সকালের গল্প বলছেন। ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী'র নিয়ম-মাফিক ব্যস্ততা, মান-অভিমান-চাপা খুনসুটি, মেয়ের স্কুলে যাবার তাড়া, অফিস যাবার প্রস্তুতি ইত্যকার বিষয়-আশয়ের সাথে প্রতিবেশী পাখিদের বিরক্তি, উচ্ছাস নিয়ে খুব ছিমছাম একটা কবিতা।
পড়তে পড়তে একটা সময় মনে হয় বুঝি কোন এনিম্যাশন ছবি দেখছি- যেন একটা ছোট পাখির বাসা; সেখানে তিনটে পাখিঃ মা-পাখি, বাবা-পাখি আর বাচ্চা-পাখি। মা-পাখিটার সকাল থেকে অনেক কাজ; তাই মেজাজ গরম; যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব। বাবা পাখিটা একটু এস্কেপিস্ট, খামখেয়ালি; ঠিক মত কিছুই করে উঠতে পারছে না জীবনে। আর, বাচ্চা পাখিটা ভাবনাহীন; এঘর থেকে ওঘরে; ওঘর থেকে এঘরে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। পিছন পিছন হয়তো মা-পাখিটাও খাবার নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
বিশেষ করে শেষ দৃশ্যটা আরো সহজে কল্পনা করা যায়। একটা দাঁড়কাক (বাবা) মাথা নিচু করে কাচুমাচু পায়ে ফুটপাথ ধরে হাঁটছে, পাশে একটা গম্ভীর চিল (মা); তার স্থির, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সামনের দিকে। আর একটু দূরে সামনে একটা চড়ুই পাখি (বাচ্চা) টুকুস টুকুস করে লাফাচ্ছে। কবিতাটা এরকমঃ
"আমার বাড়িতে কোন কাক চিল সকালে বসে না
মেঘ করুক, বৃষ্টি হোক, রোদ ছুটুক হাসিখুশি মনে
এমন কি বসন্তকাল কুলো দিয়ে হাওয়া করে যাক
কান পাতার উপায় নেই! কেননা তখন যুদ্ধ চলে
মেয়েকে স্কুলের জন্যে তৈরি করা, এবং পড়ানো
আমার ভুল বাজার, আমার চানের গরমজল
নিজের ঠাকুরঘর, স্নান, বা আনাজপাতি কাটা
মাঝখানে কুকারের সিটি আর দেরি করে আসা দুধঅলার
একচিলতে ফাঁক দিয়ে ছুটে ছুটে, দম চেপে রেখে
এঘর ওঘর করতে পায়ে লেগে গেলাস ওল্টালো
এই ভাঙল ভুল জায়গায় রাখা কাপ।
কে রেখেছে? তুমি, তুমি! না, না, তুমি! চাপান উতোর ।
- 'ফিতেটা বাঁধিস নি কেন?' - 'কলমটা কোথায় রাখলে?'
- 'না, আমার চিরুনি নেবে না!'
এই করতে করতে রোজ পানিপথের যুদ্ধ চলে
কাক চিল কাছেও ঘেঁষে না।
কেবল কোত্থেকে যেন দু-তিনটে সাহসী চড়াই
ফ্ল্যাটবাড়ির দমচাপা সরু বারান্দায়
মা মেয়ের হাতে তৈরি খানতিনেক টবের বাগানে
নেমে হুটোপুটি করে, পোকা খুঁজে পায়, ফুল ছেঁড়ে -
বুকুনের হাততালিতে 'ফুড়ুৎ' ভেঙচিয়ে
উড়ে যায়...
দেখতে দেখতে দশটা বাজে। প্রতিদিনকার তুলকালাম
ঝগড়া মুলতবি রেখে, আমরা সপরিবারে
সগর্বে বাস ধরতে যাই -
মাথার ওপরে ঘোরা কাক-চিলরাও
এ ওকে জানান দেয়ঃ 'দ্যাখ, ভাই, দ্যাখ - '
সত্যিই দেখবার মত ঃ
পাঞ্জাবি ও ঝোলাসহ আমি রোগা দাঁড়কাক,
পিছনে স্কুল ব্যাগ হাতে গৃহিণী বিরক্ত চিল,
লাফাতে লাফাতে সামনে
বুকুন চড়াই।"
বুকুন-চড়াই পাখির ক্যারেক্টারটা মনে এলো একটা শর্টফিল্ম থেকে। "Father and Daughter". এই ছবির শুরুর দিকে বুকুনের মতনই একটা হাসি খুশি, বাচ্চা মেয়ে আছে। বিকেলবেলা বাবা'র সাথে সে নদীর ধারে ঘুরে বেড়ায়। কখনো চড়ুই পাখির মত লাফিয়ে বেড়ায়; কখনোবা সাইকেলে চেপে দেয় একছুট। ছবিতে ওর বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। তারপর আর কোনদিন ফিরে আসে না।
পড়তে পড়তে একটা সময় মনে হয় বুঝি কোন এনিম্যাশন ছবি দেখছি- যেন একটা ছোট পাখির বাসা; সেখানে তিনটে পাখিঃ মা-পাখি, বাবা-পাখি আর বাচ্চা-পাখি। মা-পাখিটার সকাল থেকে অনেক কাজ; তাই মেজাজ গরম; যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব। বাবা পাখিটা একটু এস্কেপিস্ট, খামখেয়ালি; ঠিক মত কিছুই করে উঠতে পারছে না জীবনে। আর, বাচ্চা পাখিটা ভাবনাহীন; এঘর থেকে ওঘরে; ওঘর থেকে এঘরে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। পিছন পিছন হয়তো মা-পাখিটাও খাবার নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
বিশেষ করে শেষ দৃশ্যটা আরো সহজে কল্পনা করা যায়। একটা দাঁড়কাক (বাবা) মাথা নিচু করে কাচুমাচু পায়ে ফুটপাথ ধরে হাঁটছে, পাশে একটা গম্ভীর চিল (মা); তার স্থির, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সামনের দিকে। আর একটু দূরে সামনে একটা চড়ুই পাখি (বাচ্চা) টুকুস টুকুস করে লাফাচ্ছে। কবিতাটা এরকমঃ
"আমার বাড়িতে কোন কাক চিল সকালে বসে না
মেঘ করুক, বৃষ্টি হোক, রোদ ছুটুক হাসিখুশি মনে
এমন কি বসন্তকাল কুলো দিয়ে হাওয়া করে যাক
কান পাতার উপায় নেই! কেননা তখন যুদ্ধ চলে
মেয়েকে স্কুলের জন্যে তৈরি করা, এবং পড়ানো
আমার ভুল বাজার, আমার চানের গরমজল
নিজের ঠাকুরঘর, স্নান, বা আনাজপাতি কাটা
মাঝখানে কুকারের সিটি আর দেরি করে আসা দুধঅলার
একচিলতে ফাঁক দিয়ে ছুটে ছুটে, দম চেপে রেখে
এঘর ওঘর করতে পায়ে লেগে গেলাস ওল্টালো
এই ভাঙল ভুল জায়গায় রাখা কাপ।
কে রেখেছে? তুমি, তুমি! না, না, তুমি! চাপান উতোর ।
- 'ফিতেটা বাঁধিস নি কেন?' - 'কলমটা কোথায় রাখলে?'
- 'না, আমার চিরুনি নেবে না!'
এই করতে করতে রোজ পানিপথের যুদ্ধ চলে
কাক চিল কাছেও ঘেঁষে না।
কেবল কোত্থেকে যেন দু-তিনটে সাহসী চড়াই
ফ্ল্যাটবাড়ির দমচাপা সরু বারান্দায়
মা মেয়ের হাতে তৈরি খানতিনেক টবের বাগানে
নেমে হুটোপুটি করে, পোকা খুঁজে পায়, ফুল ছেঁড়ে -
বুকুনের হাততালিতে 'ফুড়ুৎ' ভেঙচিয়ে
উড়ে যায়...
দেখতে দেখতে দশটা বাজে। প্রতিদিনকার তুলকালাম
ঝগড়া মুলতবি রেখে, আমরা সপরিবারে
সগর্বে বাস ধরতে যাই -
মাথার ওপরে ঘোরা কাক-চিলরাও
এ ওকে জানান দেয়ঃ 'দ্যাখ, ভাই, দ্যাখ - '
সত্যিই দেখবার মত ঃ
পাঞ্জাবি ও ঝোলাসহ আমি রোগা দাঁড়কাক,
পিছনে স্কুল ব্যাগ হাতে গৃহিণী বিরক্ত চিল,
লাফাতে লাফাতে সামনে
বুকুন চড়াই।"
বুকুন-চড়াই পাখির ক্যারেক্টারটা মনে এলো একটা শর্টফিল্ম থেকে। "Father and Daughter". এই ছবির শুরুর দিকে বুকুনের মতনই একটা হাসি খুশি, বাচ্চা মেয়ে আছে। বিকেলবেলা বাবা'র সাথে সে নদীর ধারে ঘুরে বেড়ায়। কখনো চড়ুই পাখির মত লাফিয়ে বেড়ায়; কখনোবা সাইকেলে চেপে দেয় একছুট। ছবিতে ওর বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। তারপর আর কোনদিন ফিরে আসে না।
------------
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন