Sex and Lucia
আমার ধারনা – যৌনতা এখানে একমাত্র বিষয় নয়। পুরো সিনেমা জুড়ে একটা না-বলা শূন্যতা আছে; এস্কেইপিজম-এর হাঁ করা খোলা জানলা আছে; একটা চুপচাপ দ্বীপে খুব নির্জন একটা পিচ ঢালা রাস্তা আছে, একটা নীল রঙা সমুদ্র আছে, কোন একটা সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট জাগতিক টানাপোড়েনের অভাব আছে যার কারনে নাক-মুখ চুবিয়ে অনেকক্ষণ ভালো লাগায় ডুবে থাকা যায়।
আমার ধারনা – যৌনতা এখানে একমাত্র বিষয় নয়। পুরো সিনেমা জুড়ে একটা না-বলা শূন্যতা আছে; এস্কেইপিজম-এর হাঁ করা খোলা জানলা আছে; একটা চুপচাপ দ্বীপে খুব নির্জন একটা পিচ ঢালা রাস্তা আছে, একটা নীল রঙা সমুদ্র আছে, কোন একটা সুস্পষ্ট, নির্দিষ্ট জাগতিক টানাপোড়েনের অভাব আছে যার কারনে নাক-মুখ চুবিয়ে অনেকক্ষণ ভালো লাগায় ডুবে থাকা যায়।
আমি জুলিও মোডেমের ‘রুম ইন রোম’ দেখেছিলাম। প্রথমবার দেখতে একটু সমস্যা হয়েছিলো, কিন্তু ঘোর কাটিয়ে উঠে পরেরবার বেশ ভালো লেগেছিল। ইনফ্যাক্ট, রুম ইন রোমের সূত্র ধরেই সেক্স এন্ড লুসিয়া দেখতে বসা। বলাবাহুল্য, যৌনতা মোডেমের প্রিয় টপিক। যৌনতাকে মূল মেলডিতে রেখে বেশ নিপুনভাবে সে আশেপাশে প্লেটনিক মায়া বুনন করে। আবার এই মায়া-টা বেশ এপিলিং হয়; ফলে অন্যান্য যৌন দৃশ্যের চেয়েও এর রেশ থেকে যায় দীর্ঘক্ষণ। একটু আগে দেখে আসা রগরগে যৌন দৃশ্যটার উপর এর প্রভাব পড়ে এবং অনেকক্ষেত্রে ওটাকে ছাপিয়ে যায়। তখন মনে হয় যেন বিষয়টা অ-শরীরী! মোডেমের আর ছবি দেখা হয়ে ওঠে নি এখনো। কিন্তু, এখন পর্যন্ত যা দেখেছি তাতে তার স্টাইলটা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং বা আগ্রহ-জাগানিয়া মনে হয়েছে। এটা ঠিক যে আশেপাশের গভীর প্লেটনিক ভাবনার স্পেসগুলো না থাকলে কিংবা দর্শক কোন ভাবে সেই স্পেসের প্রপার ইউটিলাইজ করতে ব্যর্থ হলে সেক্স এন্ড লুসিয়া নিঃসন্দেহে উপভোগ্য পর্ণোগ্রাফি।
সেক্স এন্ড লুসিয়া’র গল্প নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। আমি সবচে’ বেশি উপভোগ করেছি রূপবতী লুসিয়া, তার বাইক আর চুপচাপ দ্বীপটাকে। ভিজ্যুয়ালি আর্টিস্টিক সিনেমা দেখার সুবিধা হলো কোন ঘটনা ছাড়াই অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়; নিজের মত করে ভাবা যায়। ভাবনাটা বোধ হয় জরুরী। কারন, ওটা ছাড়া নান্দনিক অথচ সিম্বলিক দৃশ্যগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে। সিনেমায় সমুদ্রের পানির নিচে বেশ কিছু শট আছে। শটগুলো দৃষ্টিনন্দন এবং রহস্যে মোড়া। দ্বীপটি যে পানির উপরে ভাসমান এটাও পরে জানানো হয়। এটা নিয়ে একটা ফিলোসিক্যাল কপচানি আছে, কিন্তু আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই বিষয়টা।
একটা পার্সোনাল অবজার্ভেশন হলো – দ্বীপের দৃশ্যগুলো আশ্চর্য্যরকম ভাবে ফাঁকা ফাঁকা; সিনেমার মূল চরিত্রগুলো ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই। এলিনা’র গেস্ট হাউসে ওরা ছাড়া আর কেউ থাকে না। লুসিয়া যে রাস্তা বেয়ে বাইক চালিয়া আসে, সে রাস্তা চোখে পড়ার মত নির্জন। সমুদ্রের কিনারায় লাইটহাউসটাও যথারীতি একা। এলিনা তার গেস্ট হাউসে নিজের অজান্তেই তার খুঁজে বেড়ানো মানুষটার সাথে চ্যাট করে। আপাত অচেনা লোকটা তার জন্য গল্প লিখে পাঠায়। এই গল্পগুলোতে সে বেঁচে থাকার রসদ খুঁজে পায়। এর সমান্তরালে এলিনার জীবনে যৌনতা দেখানো হয়। তার গেস্ট হাউসে থাকতে আসা অচেনা ডুবুরীর সাথে সে সেক্স করে। লুসিয়ার কাছে অচেনা ডুবুরীর দীর্ঘ পুরুষাঙ্গ নিয়ে পুলক প্রকাশ করে। আর লুসিয়া তার প্রেমিক-লরেঞ্জো মারা গেছে ভেবে একটা দুঃসময় অতিবাহন করে। আমার ধারনা – লুসিয়াকে (পাজ ভেগা) আমার অনেকদিন মনে থাকবে। তার আরো সিনেমা দেখার প্রত্যাশায় আছি। লরেঞ্জো’র লেখক সত্ত্বার স্ট্রাগলটা উদ্ভট, ইলজিক্যাল। অবশ্য, পুরো সিনেমায় লজিক্যাল কী-ই বা আছে?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন