Not just another ‘Belle de Jour’


Not just another ‘Belle de Jour’

লেখাটা কোন ভাবেই মুভি-রিভিউ নয়। সিনেমা দর্শন পরবর্তী কিছু চিন্তা-ভাবনা শেয়ার বলা যেতে পারে। সিনেমার নাম The Piano Teacher. গেল অস্কারের হট্টগোলে Amour দেখা হয়েছিল। সেইসূত্রে Piano Teacher দেখতে বসা। দুটো সিনেমাতেই পরিচালকের একটা প্রিয় ‘কৌশল’ হল – ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল, গ্র্যান্ড পিয়ানো, শোফিন, শুবার্ট, বিটোফেন ইত্যাদি। ‘কৌশল’ বলছি একারনে যে, এগুলো কোনভাবেই সিনেমা দুটোর মূল বিষয় নয়, কিন্তু দর্শকের কাছে মূল বিষয়টা তুলে ধরতে এইসব এলিমেন্ট ব্যবহার করে একটা আবহ তৈরী করা হয়। এটা অত্যন্ত কার্যকর, অন্তত আমার ক্ষেত্রে। সত্যি বলতে, মিউজিক্যাল এলিমেন্ট গুলো না থাকলে Piano Teacher হয়তো আমার এতটা ভালো লাগতো না। এককথায়, Piano Teacher একজন তীব্র মর্ষকামী মানুষের গল্প। অবশ্য এর বাইরেও সিনেমাটা কিছু ভাবনার স্পেস তৈরি করে, যেমন – মানুষের দ্বৈত সত্ত্বা, গোপন ফ্যান্টাসি, একাকীত্ব, প্রেম, ঈর্ষা ইত্যাদি।

মধ্যবয়স্কা এরিকা সিনেমার মূল চরিত্র। সে মানসিক ভাবে ‘ভিন্ন’/ ‘উদ্ভট’; আমি ‘ভিন্ন’ – শব্দটার পরিবর্তে বলতে পারতাম – অসুস্থ কিংবা পারভার্ট বা অন্য কিছু। কিন্তু পুরোপুরি পেরে উঠছি না। দেখা যাচ্ছে – সে একটা প্রখ্যাত মিউজিক কনসার্ভেটরির অন্যতম প্রধান পিয়ানো শিক্ষিকা। শুধু তাই নয়, সে রীতিমত স্বীকৃত শুবার্ট, শুম্যান বিশেষজ্ঞা। শুবার্টের অত্যন্ত সূক্ষ্ম মুভমেন্ট কিংবা ডিনামিক্স গুলো তার নখ দর্পনে। সে একজন বদমেজাজী, রাগী প্রফেসর। ছাত্র- ছাত্রীরা তাকে ভয় পায়, সমীহ করে। এর সমান্তরালে দেখানো হচ্ছে – এই বয়সেও সে তার বৃদ্ধা মায়ের সাথে থাকে, যিনি নিজেও কিছুটা ডিস্টার্বড এবং পানাসক্ত। এরিকা সেক্স শপে যায়, পর্ন দেখে, লুকিয়ে মিটিং-কাপল দেখে সম্ভোগ করে, ব্লেড দিয়ে কেটে বিশেষ অঙ্গ থেকে রক্তপাত ঘটিয়ে ন্যাপকিন পড়ে থাকে (not sure, she might be at menopause) ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘটনা আরো তীব্রতর হয় যখন সুদর্শন পিয়ানিস্ট ওয়াল্টারের আগমন ঘটে। ওয়াল্টার সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে এরিকা চরিত্রটির খুঁটিনাটি আরো প্রকট হয়ে ওঠে। ওয়াল্টারের প্রতি তার ভালো লাগা জাগে প্রচন্ড ঈর্ষা বোধ থেকে। অথচ দেখা যায় এর আগ পর্যন্ত সে ওয়াল্টারকে নানাভাবে দূরে ঠেলে রাখে। এমন কি, তার অধীনে মাস্টার্স করার জন্য অডিশন দিলে সে “না” ভোট দেয়। ওয়াল্টারের প্রতি তার ভালোবাসার প্রকাশও যথেষ্ট উদ্ভট, যেটাতে ওয়াল্টার নিজেও অস্বস্তিতে পড়ে। পরবর্তীতে, ওয়াল্টার তাকে যৌন নিপীড়ন করে। এই দৃশ্যটা বেদনাদায়ক এবং মনে হবে যেন, এরিকা বুঝি ওয়াল্টারকে আর কখনোই চাইবে না। একদিন পারফর্ম্যান্সের আগে সে ভ্যানিটি ব্যাগে ছুরি নিয়ে ঘুরে। মনে হবে যেন, এরিকা বুঝি বদলা নিবে, খুন করবে ওয়াল্টারকে। কিন্তু, ওয়াল্টারকে কয়েকজন মেয়ে সহপাঠীর সাথে হেঁটে আসতে দেখে শোক ও ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে দেয়। বোঝা যায়, ওয়াল্টারের যৌন নিপীড়ন তার কাছে কাঙ্খিত ছিল, এটা ছিল তার গোপন ফ্যান্টাসির অংশবিশেষ।
কিছু সিনেমা আছে যেগুলো দেখার পরে একা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতে ইচ্ছে করে। ভাবতে ইচ্ছে করে – এটা এরকম হলো কেন? এটা এরকম না হয়ে ওরকম হলে কেমন হতো? এখন আমার কেমন লাগা উচিত? ওরকম হলে কেমন লাগতো? ইত্যাদি… ইত্যাদি। The piano teacher এধরনের একটি সিনেমা। ভাবনা উদ্রেককারী, কনফিউজকারী, সময়নষ্টকারী :P
যারা সিনেমাটা দেখেন নি, তারা হয়তো ভাবছেন, যা শালা! এই বেরসিক তো পুরো হাঁড়িটাই ভেঙে দিল। রাত জেগে কষ্ট করে আর যাত্রা পালা দেখে কি হবে? কিন্তু বিশ্বাস করুন, এটি স্পিলবার্গ-এর ছবি নয়, এখানে কোন ভালো মানুষ হিরো-হিরোয়িন কিংবা খারাপ মানুষ ভিলিয়ান নাই। এটা একান্তই অনুভবের ব্যাপার। এবং আমি নিশ্চিত আপনার অবজার্ভেসন আমার থেকে ভিন্ন হবে; উদ্ভট হবে।

কোন মন্তব্য নেই: